বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একসময় আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে সহজ শর্তে যে ঋণ নিতাম, এখন আর আমাদের তা প্রয়োজন হয় না। বরং আমাদের চেয়ে যেসব দেশের আর্থিক অবস্থা খারাপ তাদেরকে সে ঋণ দেওয়া উচিত। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করে বিএসইসির চেয়ারম্যান এম. খায়রুল হোসেন। আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের অন্যান্য শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে পরিচিত করে গেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন শোষণমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধশালী একটি দেশের। আজ আমরা উন্নত দেশের দ্বারপ্রান্তে। এ দেশকে সমৃদ্ধশালী একটি দেশে রূপান্তরিত করার মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠন করা সম্ভব। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম আর রক্তক্ষয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৯০ বছরের ব্রিটিশ স্বৈরশাসনের পতন ঘটানো হলেও পরবর্তীতে পাকিস্তানিরা ২৩ বছর এ দেশকে শাসনের নামে শোষণ করেছে। এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা দেশকে স্বাধীন করলে ৭১ এর পরাজিত শত্রুরা এ দেশের বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। আর অন্যদিকে বাংলাদেশকে তলাহীন ঝুড়ি আখ্যায়িত করতে সচেষ্ট থাকে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার এক মহিলার নেতৃত্বে একটি পর্যবেক্ষণ চালানো হয় যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য। দেখা যায়, স্বাধীনতাযুদ্ধে আমাদের মোট জাতীয় আয়ের তিন পঞ্চমাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং লুটপাট করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

মুহিত বলেন, বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন আন্তর্জাতিক নেতা, যা অনেক দেশ মেনে নিতে পারছিল না। কারণ, তিনি বেঁচে থাকলে শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের শোষিত গণমানুষের দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়ে উঠবেন। যা সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি মেনে নিতে পারেনি। আর তাদেরই চক্রান্তে সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু সদস্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

 

"