নতুন রফতানি আয়ের লক্ষ্য ৪ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতাানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ৪ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার নতুন রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে পণ্য ও সেবা খাত থেকে এই বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এছাড়া এবার আরো ৯টি পণ্য রফতানিতে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিনি রফতানি আয়ের এই লক্ষ্যমাত্রার ঘোষণা দেন। এ সময় বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, পণ্য রফতানি আয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ৩৯ বিলিয়ন ডলার। যা গত অর্থবছরের (২০০১৭-১৮) চেয়ে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। আর সেবা খাতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে পাঁচ বিলিয়ন ডলার। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি বলে জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪০ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন মর্কিন ডলার রফতানি আয় হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার এসেছে পণ্য রফতানি থেকে। সেবা খাত থেকে রফতানি আয় হয়েছে ৪ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছিল ৪১ বিলিয়ন ডলার বলে জানান তিনি। গত অর্থবছরের রফতানি পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি। একমাত্র চামড়া ছাড়া সব খাতে রফতানি ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, এবার দেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত থেকে ৩২ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার আসবে বলে ধরা হয়েছে, যা মোট রফতানি লক্ষ্যমাত্রার ৮৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। আশা করি তৈরি পোশাকে এবার আরো ভালো করতে পারব। রফতানি আরো বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ওভেন পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৫৩৯ কোটি ডলার, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। আর নিটওয়্যার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১৫০ কোটি ডলার। এতে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছর তৈরি পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৩০ হাজার ৬১৪ কোটি ডলার, যা মোট রফতানি আয়ের ৮৮ দশমকি ৪৯ শতাংশ। এর মধ্যে নিট পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ১৫ হাজার ৪২৬ কোটি ডলার। আর ওভেন পণ্যে রফতানি থেকে আয় হয়েছে ১৫ হাজার ১৮৮ কোটি ডলার। এবার ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৫ কোটি ডলার। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ১২৪ কোটি ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। কৃষিজাত পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭১১ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

অন্যদিকে ৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ওষুধে ১১২ কোটি ডলার এবং ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে হোম টেক্সটাইলে ৯৪০ কোটি ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫২ কোটি ডলার। যা গতবারের চেয়ে ১ দশমিক ১১ শতাংশ কম। তোফায়েল আহমেদ বলেন, সরকার বর্তমানে ২৭টি পণ্য রফতানি খাতে বিভিন্ন হারে নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এবার আরো ৯টি পণ্য রফতানিতে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

"