সংবাদ সম্মেলনে শুল্ক গোয়েন্দার ডিজি

‘অর্থ পাচারের অভিযোগ বেশি আসছে’

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মো. সহিদুল ইসলাম বলেছেন, আগের চেয়ে অর্থ পাচার বেড়ে গেছে ; এ রকম অভিযোগ এখন অনেক বেশি আসছে। বিশেষ করে ক্রিসেন্ট লেদারসসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত চলছে। এছাড়া অবৈধভাবে মাদক আমদানি, শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস ও মাদক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সে যেই হোক না কেন আইনগত ব্যবস্থা নিতে শৈথিল্য দেখানো হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর উত্তরা ক্লাবে অভিযান ও শুল্ক গোয়েন্দার চলমান কার্যক্রম বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংস্থাটি।

ডিজি বলেন, ক্রিসেন্ট লেদার ১ হাজার ১০৪ কোটি টাকা পাচার করেছে; এমন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স তদন্ত করছে। মাসটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ খোলা বাজারে অবৈধভাবে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে ১২০ কোটি টাকা পাচার করেছে; এমন তথ্যের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। সেই মামলার তদন্তও এগিয়ে যাচ্ছে। আরো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত চলছে জানালেও তদন্তের স্বার্থে ওইসব প্রতিষ্ঠানের নাম জানাননি ডিজি। এ ছাড়া ?শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর ৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার হুন্ডি মামলার তদন্ত করছে বলে জানান তিনি। ড. সহিদুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর অনেক ক্লাবের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মাদক আমদানি, শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালানের মাধ্যমে মাদক এনে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে কাজ চলছে। প্রমাণের ভিত্তিতে সেসব ক্লাবের অভিযান পরিচালনা করা হবে। রাজধানীর কোন কোন ক্লাবে অবৈধ মদ ও মাদকদ্রব্য আছে; সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সহিদুল ইসলাম বলেন, অনেক অভিজাত ক্লাবে অবৈধ মদ ও মাদকদ্রব্য আছে, এমন অভিযোগ আছে। যা এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে বলা যাবে না। সবার অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগ মোতাবেক তদন্তও হচ্ছে। আমাদের জনবল কম, তাই কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে এটা সবার মনে রাখতে হবে, যত বড়ই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটাও সত্যি যে, অভিযোগ পেলেই আমরা অভিযানে যাব না। কারণ, অভিযানে গেলে আমাদের শক্ত প্রমাণ লাগে। আর অন দ্য স্পটে ধরতে হবে। তাই যারা অভিযোগ দিচ্ছেন তাদের বলছি, আপনারা চোখ রাখুন এবং যৌক্তিক প্রমাণ সংগ্রহ করুন।

অবৈধ মাদকদ্রব্য বহনকারীরাই ধরা পড়ছে। কিন্তু এদের অন্তরালে বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে কেনÑ জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, চোরাচালান ও অবৈধ মাদকদ্রব্য বহনকারীর সংখ্যা বেশি। তাই ঘুরে ফিরে তাদেরই দেখা যাচ্ছে এবং তারাই বেশি ধরা পড়ছে। তবে এটা সত্যি নয় যে, অন্তরালে থাকা ব্যবসায়ীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাদেরও ধরা হচ্ছে। তবে তাদের সংখ্যা খুব কম। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার, হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়।

গাড়ি জব্দের বিষয়ে ডিজি বলেন, বেশ কয়েকটি শুল্ক ফাঁকি দেওয়া গাড়ি নজরদারিতে রয়েছে। যেকোনো সময় ওইসব গাড়ি পাকড়াও করা হবে। অনেকেই ভয়ে গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। যারা শুল্ক পরিশোধ করবেন তাদের ব্যাপারে শুল্ক গোয়েন্দার কোনো মাথাব্যথা নেই।

এর আগে গত সোমবার ঢাকার অভিজাত ক্লাব উত্তরা ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ৫ কোটি টাকার বিদেশি বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ, হুইস্কি, ওয়াইন, ভদকা ও বিয়ার উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা। শুল্ক গোয়েন্দারা জানান, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে গোপন সংবাদ থাকায় এ দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে র‌্যাব ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত টিম উত্তরা ক্লাবে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য জব্দ করে।

"