ভ্যাট ফাঁকি প্রতিরোধ

এনবিআরের নিজস্ব সফটওয়্যার বসছে ব্যাংকে

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

উৎসে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ফাঁকি প্রতিরোধে এবার দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বসানো হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিজস্ব সফটওয়্যার। পরীক্ষামূলকভাবে সরকারি ৪ ব্যাংকসহ ১৭ ব্যাংকে এই সফটওয়্যার বসানো হবে। তবে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ব্যাংকেও এই সফটওয়্যার বসানো হবে বলে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) সূত্রে গেছে।

সম্প্রতি তৈরি করা এলটিইউর এক তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ঠিকমতো মূসক জমা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে। অবশ্য এনবিআরের প্রতিবেদনে একটি ব্যাংকের ভ্যাট ফাঁকির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় সব ব্যাংকই বছরের পর বছর উৎসে মূসক ফাঁকি দিয়ে আসছে। মনিটরিং না থাকায় এই ফাঁকি বাড়ছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সফটওয়্যারটি জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ ৪টি শাখায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এলটিইউর কমিশনার মো. মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, উৎসে মূসক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে ব্যাংকগুলোতে এই সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। তবে পরীক্ষামূলকভাবে জনতা ব্যাংকে সফটওয়্যারটি স্থাপন করা হয়েছে। এতে বেশ ভালো সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি। ভ্যাট ফাঁকি প্রতিরোধে পর্যায়ক্রমে সব ব্যাংকে স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকের ৩৯টি সেবার বিপরীতে প্রায় সাড়ে চার শতাংশ উৎসে মূসক কর্তনের বিধান রয়েছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিস ব্যবহার করে উৎসে মূসক কর্তন করছে না। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এর আগে উৎসে মূসক কর্তন ও কোষাগারে জমা সংক্রান্ত কাগজপত্র চেয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয় এলটিইউ। ১৭ ব্যাংকের মধ্যে ১৫ ব্যাংকের ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিস প্রোভাইডারের আওতায় থমসন রয়টার্সের সেবা গ্রহণের তথ্য পায় এলটিইউ। চিঠি দেওয়া ও তদারকির পর ১১ ব্যাংক উৎসে মূসক সংক্রান্ত তথ্য দাখিল করে। এতে দেখা যায়, একটি ব্যাংক মাত্র ৫০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। এলটিইউর সন্দেহ হলে প্রতিটি ব্যাংকের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জানা যায়, এলটিইউর আওতাধীনে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেড। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে উত্তরা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, এইচএসবিসি ও সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেড।

জানা যায়, এর আগে উৎসে মূসক ফাঁকি রোধ, সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে সব ব্যাংকে পরীক্ষামূলকভাবে একটি অনলাইনভিত্তিক সফটওয়্যার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথমে কিছু ব্যাংক অনীহা প্রকাশ করলেও এখন সবাই বেশ সাড়া দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

"