ব্যাংকে অলস পড়ে আছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ব্যাংকগুলোয় প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি অলস টাকা রয়েছে। যদিও ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট রয়েছে বলে দাবি করা হয়। ২০১৮ সালের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত অলস টাকার পরিমাণ ৭৬ হাজার ৮৮৮ কোটি ১৬ লাখ। তবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ৯৭ হাজার ১২২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত তারল্যের অধিকাংশই রয়েছে সরকারি মালিকানার ব্যাংকগুলোয়। সবচেয়ে বেশি অলস অর্থ জমা রয়েছে সোনালী ব্যাংকে। এখানে অলস অর্থ রয়েছে ৩১ হাজার ১২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল) বাণিজ্যিক ব্যাংক ও দুইটি বিশেষায়িত ব্যাংকে (বিকেবি ও রাকাব) অলস অর্থের পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ১২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। চলতি বছরের মার্চ শেষে জনতা ব্যাংকে অলস অর্থের পরিমাণ ছিল ৭৯৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংকে ২ হাজার ৫০৮ কোটি ৫০ লাখ, বেসিক ব্যাংকে ১ হাজার ৪২০ কোটি ৬০ লাখ, অগ্রণী ব্যাংকে ২ হাজার ৩৯৮ কোটি ৪০ লাখ, বিডিবিএল ব্যাংকে ৬৬০ কোটি ৮৯ লাখ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে (বিকেবি) ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব) অলস অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ১ হাজার ১২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের একই সময় এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৯৭ হাজার ১২২ কোটি টাকা। জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমানত সংগ্রহ করেছে ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটি ঋণ বাবদ বিতরণ করেছে মাত্র ৪২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক ডিসেম্বর পর্যন্ত আমানত সংগ্রহ করেছে ৫৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ৩১ হাজার ৯১১ কোটি টাকার ঋণ। রূপালী ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করেছে ৩২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনতে চাপের মুখে থাকা বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে পড়ে থাকা অলস অর্থ নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। অবশ্য সেই দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অলস টাকা থেকে ৬ শতাংশ সুদে আমানত নিতে যাবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোয়। গত ২ জুলাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চলতি বছরের শুরু থেকে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার টানাটানি শুরু হয়। সংঙ্কট থেকে বেড়ে যায় সব ধরনের ঋণ ও আমানতের সুদ হার। আমানতকারীকে কোনো কোনো ব্যাংক ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে শুরু করে টাকার টানাটানি দূর করতে। আবার আমানতের উচ্চ সুদের হারের কারণে বিনিয়োগের সুদ হার ১৭/১৮ শতাংশ দাঁড়ায়।

পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের নীতি সহায়তা চান বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তারল্য সঙ্কট কাটাতে নতুন নিয়মে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ পাচ্ছে বেসরকারি ব্যাংক। কমানো হয়েছে নগদ জমার হার (সিআরআর) হার। সব তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের সাড়ে ৬ শতাংশ হারে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এবং ৬ শতাংশ দৈনিক হারে নগদ জমা সংরক্ষণ করার বিধান ছিলো। সেটি পুনর্নির্ধারণ করা হয় সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সাড়ে ৫ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে ৫ শতাংশ। আগ্রাসী ব্যাংকিং করে তারল্য সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোর ঋণ আমানত হার নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনতে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

"