গুঁড়া দুধ আমদানি

৩০ শতাংশ অ্যান্টিডাম্পিং ডিউটি আরোপের দাবি

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে গুঁড়া দুধ আমদানিতে শুল্ক কমানোকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ)। এছাড়া গুঁড়া দুধ আমদানিতে ৩০ শতাংশ অ্যান্টিডাম্পিং ডিউটি আরোপের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য তুলে ধরেন সভাপতি মো. ইমরান হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মিল্ক ভিটার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় দুগ্ধ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান, এসএমই করপোরেশনের পরিচালক আজাদ চৌধুরী, বিডিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক শাহ এমরান প্রমুখ।

তিনি বলেন, দুধ উৎপাদনে সাধারণ খামারিরা যখন পারদর্শিতা দেখাতে শুরু করেছেন, সেই সময় বাজেটে গুঁড়া দুধের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী গুঁড়া দুধের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হলে দুগ্ধ খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে জানান তিনি।

ইমরান বলেন, গুড়া দুধ আমদানির ক্ষেত্রে সর্ব প্রথম শুল্ক হার ছিল ৫১ শতাংশ। পরবর্তীতে তা কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। যেখানে দেশে দুধের উৎপাদন বাড়ছে, খামারের সংখ্যা বাড়ছে, বেকার সমস্যার সমাধান হচ্ছে- সেক্ষেত্রে হঠাৎ করে গুঁড়া দুধের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়া দুগ্ধ খামারিদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেওয়ারই সামিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছরে দুধ উৎপাদন হয় ২৯ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন; যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯২ দশমিক ৮৩ লাখ মেট্রিক টন হয়েছে। এখন গুঁড়া দুধের আমদানি শুল্ক কমালে খামারিরা নিরুৎসাহিত হবেন। ফলে দুধের উৎপাদন কমে ৫০ লাখ মেট্রিক টনের নিচে চলে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

মিল্ক ভিটার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মিল্ক ভিটার এলাকাতে প্রতিদিন সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। আমরা এই দুধই নিতে পারি না। এমন পরিস্থিতিতে গুঁড়া দুধের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়া সঠিক হবে না বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দুগ্ধ খামারিদের রক্ষায় গুঁড়া দুধের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানানো হয়। সেসঙ্গে ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, আমাদের দেশে যে দুধ উৎপাদন হচ্ছে আমরা তাই ব্যবহার করতে পারছি না। দুধ বিক্রি করতে না পেরে অনেক সময় খামারিরা পানিতে দুধ ফেলে দিচ্ছেন। তাহলে কেন বিদেশ থেকে গুঁড়া দুধ আমদানি করতে হবে- এই প্রশ্ন রাখেন তারা।

"