৪৫টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ৯২৯৫ কোটি টাকা

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

শাহ্জাহান সাজু

২০১৭-১৮ অর্থবছরে (৩০ এপ্রিল পর্যন্ত) দেশের ৪৫টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট মুনাফা ৯ হাজার ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে। ওই একই সময়ে সরকারি কোষাগারে লভ্যাংশ জমা দিয়েছে ২ হাজার ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুনাফা অর্জন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। অর্থবছরের উল্লিখিত সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফার পরিমাণ ৬ হাজার ১৮১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯৮৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

৭টি সেক্টরে বিভক্ত করে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে অর্থনৈতিক ও অর্থিক বিশ্লেষণটি করা হয়েছে। সাত সেক্টরের মধ্যে শিল্পে ৬টি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিতে ৫টি, পরিবহন ও যোগাযোগে ৭টি, বাণিজ্যে ৩টি, কৃষিতে ২টি, নির্মাণে ৫টি এবং বিভিন্ন সার্ভিস সেক্টরে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। নিট মুনাফার হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৯৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করেছে।

অন্যদিকে অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসানের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যদিও পূর্ববর্তী ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে লোকসান কমেছে। ওই বছর লোকসান ছিল ৪ হাজার ৪৩৪ কোটি ৩ লাখ টাকা।

অন্যান্য সংস্থার মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে (৩০ এপ্রিল পর্যন্ত) বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন মুনাফা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুনাফা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সংস্থাগুলো সরকারি কোষাগারে ২ হাজার ২৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা লভ্যাংশ জমা দেয়। সংশোধিত হিসেবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২ হাজার ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। যেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লভ্যাংশ হ্রাস পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি না পাওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ২০১৮-১৯ অর্থবছর লোকসানের সম্মুখীন হবে। এজন্য কোনো লভ্যাংশ প্রদান করা হবে না। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে এসব সংস্থার নিট মুনাফা হয়েছে ৯ হাজার ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। যেসব সংস্থা মুনাফা করেছে তা লভ্যাংশ হিসেবে একই সময়ে ২ হাজার ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করেছে। জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত সর্বশেষ হিসাবে যেসব সংস্থার কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সর্বোচ্চ ঋণ রয়েছে তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। সরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে এই সংস্থার ঋণের আকার দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩৫৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ধারাবাহিকভাবে লোকসানে রয়েছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। সরকারি ব্যাংকগুলোতে তাদের ঋণ রয়েছে ৫ হাজার ৫৮৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক কমে যাওয়ায় বিগত বছরগুলোতে তেলের দাম কমানো হয়নি। তাই ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ৭৫০ কোটি টাকা সরকারকে মুনাফা প্রদান করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

"