খেলাপি ঋণ আদায়

ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষকে সক্রিয় করার উদ্যোগ

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

শাহ্জাহান সাজু

খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। ২০০১ সাল থেকে ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষ হিসেবে বেসরকারি এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। উদ্যোগটি বেশ ফলপ্রসূও হয়। কিন্তু ব্যাংকের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার অসহযোগিতায় বেশ কিছুদিন ধরে এ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তাই আবারও উদ্যোগটি কার্যকর করতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এক বছরের ব্যবধানে ১২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা বেড়ে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ বাড়ার এ ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষ হিসেবে বেসরকারি এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগটি নিতে যাচ্ছে সরকার। সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর সহযোগিতায় সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পিপলস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস করপোরেশন লিমিটেড (পিডিএসসি) দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে কতিপয় শর্তসাপেক্ষে খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে সোনালী ব্যাংকসহ আরো কিছু সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বেসরকারি উদ্যোগে এজেন্ট নিয়োগে খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়। সে সময় পিডিএসসি লিমিটেডের পাশাপাশি আরো তিন প্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রম শুরু করে।

জানা যায়, মামলার জটে আটকে থাকা ঋণ আদায় কার্যক্রমে প্রাথমিক অবস্থায় তেমন সফলতা না আসলেও তিন বছরের মধ্যে বিষয়টি ঋণগ্রহীতা ও ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো থেকে ১০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত অনাদায়ী মন্দ ও কুঋণ যা অর্থঋণ আদালতের মামলায় ঋণ আদায় কার্যক্রম উচ্চ আদালত বন্ধ থাকা খেলাপি ঋণ হিসাবগুলো এজেন্টগুলোর নিকট হস্তান্তর করে। এসব ঋণের বেশকিছু ঋণ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আদায় করতে সক্ষম হয়। এক সময় ভুয়া বন্ধকি জমি, মালিকানা সম্পত্তি বিরোধ এমনকি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের দায়িত্বও এজেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হয়। কিন্তু মামলা পরিচালনার দায়িত্ব ব্যাংকগুলোর হাতেই রাখা হয়। তাই চুক্তিবদ্ধ এজেন্ট ইচ্ছা করলে মামলায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। অপরদিকে, ব্যাংক নিয়োজিত আইনজীবীরা ঋণখেলাপির সঙ্গে যোগসাজশে মামলা দীর্ঘায়িত বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কাজ করেন। ফলে ঋণ আদায় স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এজেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এসব অসহযোগিতার কারণে গত চার-পাঁচ বছর ধরে বেসরকারি পর্যায়ে খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রম একেবারে স্থবির হয়ে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. সাজ্জাদুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানায়।

"