ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে আসছে বাজেটেও থাকছে বরাদ্দ

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে আবারও বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য মূলধন পুনর্ভরণ খাতে আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটেও ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। তবে আসছে নতুন অর্থবছরেও এ খাতে ব্যাংকগুলোকে কিছু শর্ত পূরণের শর্তে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, সরকারি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে ২০১২-১৩ থেকে গত অর্থবছর পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে সরকার। সরকারি বাজেট ডকুমেন্ট ও অর্থ বিভাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে পুনর্মূলধন খাতে এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। তার পরের অর্থবছর ২০১০-১১ অর্থবছরে দেওয়া হয় এক হাজার ৫০ কোটি টাকা। একইভাবে ২০১১-১২ অর্থবছরে দেওয়া হয় ৭০০ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছর ৪২০ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছর ৫ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছর দুই হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছর এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছর দুই হাজার কোটি টাকা। আর চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর এখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে আবারও দুই হাজার কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে বেসিক ব্যাংককে। ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বেসিক ব্যাংককে মোট দেওয়া হয়েছে তিন হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। এরপরই রয়েছে সোনালী ব্যাংকের স্থান। ব্যাংকটিকে ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৬-১৭Ñএ তিন অর্থবছরে দেওয়া হয়েছে তিন হাজার পাঁচ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। ব্যাংকটিকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেওয়া হয়েছে এক হাজার ৮১ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে জনতা ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে ৮১৪ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে মূলধন পুনর্গঠন, প্রভিশন ঘাটতি ও সুদ, ভর্তুকি বাবদ ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট ৭২৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, সরকারি ব্যাংকে প্রতিনিয়ত বাড়ছে খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) আর মূলধন ঘাটতি। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অদক্ষতার দায় মেটানো হচ্ছে জনগণের করের টাকায়। প্রতি অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও মূলধন ঘাটতি মেটাতে আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। কিন্তু মূলধন ঘাটতির তুলনায় এই বরাদ্দ খুবই কম। কারণ সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ে সরকারি ব্যাংকগুলোর পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ সাত হাজার ৩৪৮ কোটি ২ লাখ টাকা। তারপরই আছে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ছয় হাজার কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বহুল আলোচিত বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আর গত জুনেও জনতা ব্যাংতের উদ্বৃত্ত ছিল ১৭ কোটি টাকা, সেটিও এখন মূলধন ঘাটতিতে ধুঁকছে। এ ব্যাংকটিরও বেসিক ব্যাংকের মতোই দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি। এ ছাড়া রূপালী ব্যাংক এক হাজার ২৫০ কোটি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ৮০০ কোটি মূলধন ঘাটতি রয়েছে।

 

"