নতুন উদ্যোক্তা সংকটে তৈরি পোশাক শিল্প

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক শিল্পে তরুণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের সংখ্যা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তৈরি পোশাক শিল্প সংগঠন বিজিএমইএ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকের দরপতনের পাশাপাশি রফতানি কমে পোশাক শিল্প এখন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বলেও মনে করছে সংগঠনটি।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক শিল্পে চাহিদা নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে পোশাক শিল্পের বাজার খারাপ। কোনো প্রবৃদ্ধি নেই। গত ১০ বছরে যেখানে গড়ে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল কিন্তু এ বছরে এসে কোনো প্রবৃদ্ধিই নেই। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে পোশাক খাত। ইউরোর দরপতন, ব্রেক্সিটসহ অন্যান্য কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দরপতন হয়েছে। বিপরীতে গত দুই বছরে গ্যাস সংকটসহ দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ। খবর অবজারভার

পোশাক শিল্পে নতুন উদ্যোক্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, পুরনো ব্যবসায়ীদের সন্তানরা পারিবারিকভাবে তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে এই ব্যবসায় নামছে তবে নতুন উদ্যোক্তাদের সংখ্যা খুব বেশি না।

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মো. নাসির বলেন, নতুন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সংখ্যা পোশাক শিল্পে খুব একটা বাড়ছে না। বংশানুক্রমিকভাবে কিছু তরুণরা এই ব্যবসায় এলেও নতুন উদ্যোক্তা আসছে না। ফলে পোশাক শিল্পের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। পোশাক শিল্পের ব্যবসা বাড়ছে না দিনে দিনে পিছিয়ে যাচ্ছে। গত একবছরে প্রবৃদ্ধি ০.২ শতাংশ। যা তুলনামূলকভাবে খুব কম।

তিনি আরো বলেন, যত রকমের ব্যবসা আছে তার মধ্যে পোশাক শিল্পের ব্যবসায় অনেক প্রতিযোগিতা। এই ব্যবসায় সার্বক্ষণিক চিন্তায় থাকতে হয়। পোশাক শিল্প এখন আর আগের স্থানে নেই। টাকা ইনভেস্ট করে এখান থেকে লাভ করে ফেরা খুব কঠিন। তার করণে অনেক নতুন উদ্যোক্তারা এই ব্যবসায় আসতে চায় না। তবে নতুনদের এই ব্যবসায় আনতে হলে আমাদের ব্যবসা সংক্রান্ত ইনস্টিটিউট বা ট্রেইনিংয়ের ব্যবস্থা করে ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।

বিজিএমইএ সূত্রে পাওয়া রফতানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার একটি চিত্রে দেখা যায়, গত অর্থবছরের শেষের ছয় মাসে রফতানি প্রবৃদ্ধির ৪.৩৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৯.২৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.২১ শতাংশ। রফতানি কমেছে যুক্তরাষ্ট্রে ৯.১১ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৫.১৯ শতাংশ, কানাডায় ৭.০৩ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ১০.৯৬ শতাংশ, ব্রাজিলে ৪৫. ৪২ শতাংশ। ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে প্রতি বছর ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে বলে পোশাক মালিকরা হিসাব দেখিয়েছেন।

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের মন্দাভাব এবং নতুন উদ্যোক্তাদের সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে লেখক, গবেষক ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, পোশাক শিল্পে তরুণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের সংখ্যা কম। তবে প্রতিনিয়ত নতুন উদোক্তাদের দ্বারা নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেই তো হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারও তৈরি হতে হবে। শুধু ব্যবসায়ী বৃদ্ধি করে উৎপাদন বাড়ালে হবে না। পণ্য বিক্রয়ের জন্য বাজার থাকতে হবে। নতুন ব্যবসায়ীরা দেখছে যে পোশাক শিল্পের বাজার তেমন একটা নেই সেজন্যই তারা এই ব্যবসায় নামছে না। যে ব্যবসায় বাজার আছে সেই ব্যবসাতেই নতুন উদ্যোক্তারা ইনভেস্ট করবে।

অর্থনীতিবিদ মির্জা আব্বাস বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক শিল্পের মাধ্যমে আয় এখনো ইতিবাচক তবে প্রবৃদ্ধি নিচের দিকে নামছে। আর নতুন উদ্যোক্তাদের এই ব্যবসায় আসতে হলে অনেক বিষয়ে জানতে হয়। ব্যবসার অনেক নিয়ম কানুন বা শর্ত রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের বিধিনিষেধ মেনে এই ব্যবসায় আসতে হয়। সেদিক থেকে অনেক উদ্যোক্তাই এই ব্যবসাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। তবে নতুন উদ্যোক্তারা বিদেশিদের সঙ্গে একত্রে এই ব্যবসায় নামতে পারে। নতুন ব্যবসায়ী না এলে খুব একটা ক্ষতি হবে না পোশাক শিল্পের বলে মনে করেন তিনি।

"