অর্থবছরের প্রথম সাত মাস

আয়করে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) আয়কর আদায়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই সময়ে আয়কর বা প্রত্যক্ষ কর থেকে ৩২ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা রাজস্ব আহৃত হয়েছে। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উল্লেখিত সময়ে রাজস্ব আহৃত হয়েছিল ২৯ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। তার মধ্যে আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৭ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। তবে অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আদায়কৃত ৩২ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকার আয়করের মধ্যে ৬০০ কোটি টাকা ভ্রমণ কর রয়েছে।

সূত্র জানায়, ব্যক্তি পর্যায়ে আয়কর বিবরণী দাখিলের পরিমাণও প্রথম সাত মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ। এ সময়ে আয়কর বিবরণী দাখিল হয়েছে ১৬ লাখ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৪৮ হাজার। বর্তমানে দেশে ইলেকট্রনিক আয়কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (ইটিআইএন) সংখ্যা ৩৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, কর প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ ও তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার এবং করবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ফলে করদাতারা আয়কর দেওয়ায় আগের চেয়ে বেশি সাড়া দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে আগের তুলনায় কর প্রশাসনের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। আয়কর বিবরণী দাখিলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি আয়কর আহরণের প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।

সূত্র জানায়, করদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে হয়রানি বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এনবিআর। পাশাপাশি যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের যথোপযুক্ত স্থানে পদায়ন এবং অংশীজনদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে করদাতাদের সঙ্গে কর বিভাগের আস্থার সম্পর্ক তৈরি করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এসব কারণে আয়কর আহরণ বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এবং আয়করই হবে রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত। স্বাধীনতার পর রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা ছিল শুল্কনির্ভর। গত কয়েক বছর ধরে এ ধারা পরিবর্তন হয়ে রাজস্ব আদায়ে শীর্ষে চলে এসেছে আয়কর খাত। এজন্য করদাতার সংখ্যা বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে এনবিআর।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে প্রথম বাজেট দেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। আলোচ্য অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ছিল আমদানি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা এবং আবগারি শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তবে ঠিক ৪৩ বছর পর আয়করই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার শীর্ষে উঠে এসেছে। অর্থাৎ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর খাতে ৬৫ হাজার ৯৩২ কোটি, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) খাতে ৬৩ হাজার ৯০২ কোটি এবং শুল্ক থেকে ৪৬ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। তবে আগামীতে আয়কর খাতকে পেছনে ফেলে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটকে রাজস্ব আদায়ের প্রধান খাত করার লক্ষ্য স্থির করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরে স্থানীয় পর্যায়ের মূসক থেকে সর্বোচ্চ ৯১ হাজার কোটি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এর পরই আয়কর থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে চলতি অর্থবছরের বাজেটে।

"