ভারতের ঋণের বেশির ভাগ টাকা অব্যবহৃত

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত প্রতিশ্রুত ঋণের টাকা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছে না বাংলাদেশ। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ‘সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট’-এর নামে ভারত যে শর্ত দিচ্ছে তা বাস্তবায়ন অনেকটাই কঠিন বাংলাদেশের জন্য। তাই ভারত প্রতিশ্রুত ঋণের বেশিরভাগ টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ঋণের যেটুকু অর্থ ব্যবহার করা গেছে তা ভারত সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। এর বাইরে নয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইআরডি সূত্র জানায়, ঋণের টাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্প হলে ৬৫ শতাংশ সেবা ও মালামাল ভারত থেকে আনতে হবে। অন্য প্রকল্প হলে সে ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ মালামাল ও সেবা ভারত থেকে আনার শর্ত থাকে। ভারত থেকে পাওয়া ঋণের সুদ হার ১ শতাংশ আর প্রতিশ্রুতি মাসুল আধা শতাংশ। ২০ বছরে পুরো ঋণের টাকা পরিশোধ করার বিধান থাকলেও পাঁচ বছরের রেয়াত সময় পাওয়া যায়।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, ভারত থেকে পর্যাপ্ত ঋণ পাওয়া গেলেও তা কাজে লাগানো যায় না। আবার বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প নেওয়া হলেও তা অনুমোদন পেতে সময়ক্ষেপণ হয়। আবার প্রকল্প অনুমোদন পেলেও ওই প্রকল্পের টাকা ছাড়ের ক্ষেত্রে গড়িমসি রয়েছে। কারণ তাদের শর্ত খুব কঠিন।

শর্তের মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে তাদের (ভারত) নির্ধারিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব দিতে হবে। আবার প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের দেশের কোম্পানির উৎপাদিত পণ্য প্রকল্পে ব্যবহার করতে হবে। তবে যে প্রকল্পগুলোয় ভারত-বাংলাদেশের যৌথ সম্পর্ক রয়েছে তেমন প্রকল্পে তারা আগ্রহভরে অর্থছাড় করে।

আরো জানা গেছে, শুধু ভারতই নয়, চীনের কাছ থেকে পাওয়া ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই সমস্যায় পড়তে হয় বাংলাদেশকে। তবে এ ক্ষেত্রে চীনের শর্ত কিছুটা সহনীয়। চীন তাদের ঋণের টাকায় নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সে দেশের একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব করে, যেখান থেকে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠান পছন্দ করার এখতিয়ার রাখা হয়Ñ যা ভারত দেয় না। তবে কঠিন শর্তে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সব ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেই কিছু নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়। ওই নিয়মনীতি ঠিক করতে কিছুটা সময় তো লাগবেই। এটিকে দায়ী করা ঠিক নয়।’

গত বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশের জন্য সাড়ে চারশ’ কোটি ডলার ঋণের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সময় শেখ হাসিনা ও মোদির উপস্থিতিতে ২২টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন বাংলাদেশের সামরিক ক্ষেত্রে ৫০০ মিলিয়ন ডলারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সহজ শর্তে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের অক্টোবরে ভারতীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বাংলাদেশ সফরে এসে দু’দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করেন। এর আগে ২০১০ সালেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং প্রথম লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৮০ কোটি ডলার ঋণ এবং ২০ কোটি ডলার অনুদান। ওই ঋণের আওতায় নেওয়া হয়েছিল ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প। যার মধ্যে ১২টির কাজ শেষ হয়েছে। ভারত সম্পৃক্ত এসব প্রকল্পের বিপরীতে গত সাত বছরে মাত্র ৩৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার ছাড় করেছে ভারত; যদিও আরো ৮৬ কোটি ডলার ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল। এরপর দ্বিতীয় ঋণ চুক্তির আওতায় মনমোহন সিং সরকার আরো ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ওই অর্থে ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১২টিতে। তবে প্রকল্পগুলোর মাঠ পর্যায়ের কাজই এখনো শুরু হয়নি।

"