এখনো ‘স্বাভাবিক’ হয়নি ডলারের বাজার

ডলারের দরের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ব্যাংকগুলো ক্ষমা চেয়ে নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিলেও বছরের শেষে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা নিয়েই শুরু হলো ২০১৮ সাল। ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির বিপরীতে কমছে টাকার মান। আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত বছর ডলারের দর বাড়তে বাড়তে ৮৩ টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ এক ডলারের জন্য এখন গুনতে হচ্ছে ৮৩ টাকা। এক বছর আগে এই এক ডলারের জন্য খরচ করতে হতো ৭৮ টাকা ৮৫ পয়সা। আর ছয় মাস আগে লাগত ৮০ টাকা ৬০ পয়সা।

যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান গত এক বছরে এভাবেই কমছে। এতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং রফতানি আয়ে ‘ইতিবাচক’ প্রভাব পড়লেও আমদানিতে খরচ পড়ছে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন ডলার ছেড়েও বাজার ‘স্বাভাবিক’ করতে পারছে না।

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ১০৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার (১.০৬ বিলিয়ন) বাজারে ছেড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের কাছে। ২০ কোটি ডলার কিনেছে রূপালী ব্যাংক। বাকিটা অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের কাছে বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া রফতানিকারকদের সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) পরিমাণ দুই বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে আড়াই বিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। তবে টাকা যেন খুব বেশি দুর্বল হয়ে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এ দেশের অর্থনীতিবিদরা। এমনকি ডলারের দরের এই ঊর্ধ্বগতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, তা ধরা পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিলেও বছরের শেষে এসে আবারও একই প্রবণতা দেখা গেছে কোনো কোনো ব্যাংকে। ব্র্যাক ব্যাংক ক্ষমা চাওয়ার পরও ফের বেশি দামে ডলার বিক্রি করায় দ্বিতীয় দফা নোটিস পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকগুলো মুনাফা বাড়াতে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব আমদানি নিষ্পত্তি করতে চায়। মূলত বছর শেষে ভালো মুনাফা করতেই তাদের এ প্রবণতা। ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বাজারে নজর রেখেছেন এবং চাহিদা অনুযায়ী ডলার ছাড়ছেন। ব্যাংকগুলো যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার কিনে বেশি দামে বিক্রি না করে, সেটাও তদারকি করা হচ্ছে।

"