আকুর বিল পরিশোধে কমবে রিজার্ভ রেকর্ড

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি দেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ১০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে এলে বিশ্বের কাছে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। ২০০১ সালে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ওই সময় প্রথমবারের মতো এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল বকেয়া রাখতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর রীতিমতো খাদ থেকে উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ। রফতানি আয় এবং রেমিট্যান্স বাড়ায় সেই রিজার্ভ বাড়তে বাড়তে ১৬ বছরের মাথায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।

এবার বহুদিন পর চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিদেশির মুদ্রার সঞ্চয়ন। দেশের আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৩২১ কোটি (৩৩.২১ বিলিয়ন) ডলার। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) রেকর্ড ১৩৬ কোটি ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর তা ৩২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসবে, যা হবে গত সোয়া বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম রিজার্ভ।

আমদানি ব্যাপক বাড়ার পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ ও রফতানি আয়ের ধীরগতির কারণে এতদিন রিজার্ভের যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল সেটা আর থাকবে না বলেও আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে রিজার্ভ। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচক ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। ওই সালের ৪ নভেম্বর ৩২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে রিজার্ভ।

গত বছরের ২২ জুন রিজার্ভ ছাড়ায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার; ২০১৭ সালের জুলাই শেষে।

আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বাংলাদেশকে দুই মাস পরপর পরিশোধ করতে হয় আকুর বিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। পদ্মা সেতুসহ সরকারের বড় বড় প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি), শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বাড়ায় সার্বিক আমদানি বেড়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেন, তবে এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এত আমদানির পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে প্রচুর রিজার্ভ থাকবে। যা দিয়ে ৬-৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমদানি ব্যয় বাড়া মানে বিনিয়োগ বাড়া। অর্থনীতি এগিয়ে চলা; দেশের উন্নয়ন। আমাদের এখন সেটিই হচ্ছে।

নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে নভেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের আকুর বিল পরিশোধ করবে বাংলাদেশ। এবার ১৩৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে। আকুর এই বিল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এর আগে জুলাই-আগস্ট মেয়াদে ১১৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদে পরিশোধ করা হয় ১১৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিল।

"