নতুন বছরে রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারার মধ্য দিয়েই শেষ হলো ২০১৭ সাল। গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে নেতিবাচক ধারা ছিল, সেটা চলতি ২০১৮ সালে কেটে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। বিদায়ী বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ১১০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। আর চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ শতাংশের মতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংকিং চ্যানেলে ৬৮৬ কোটি ৮৫ লাখ (৬ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের এই পাঁচ মাসের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে রেমিট্যান্স বাড়াতে জনশক্তি রফতানি বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এ সবের ইতিবাচক ফল এখন লক্ষ করা যাচ্ছে বলে ব্যাংকারদের মতামত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। একক মাসের হিসেবে এটা ছিল সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৯২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কারণে বেশ কিছু দিন ধরে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়েছিল। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম রেমিট্যান্স আসে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। দ্বিতীয় মাস আগস্টে আসে ১৪১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। অক্টোবর মাসে এসেছে ১১৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। নভেম্বর মাসে আসে ১২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ (১৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স বাংলাদেশে আসে।

এরপর প্রতিবছরই রেমিট্যান্স কমেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আড়াই শতাংশ কমে রেমিট্যান্স আসে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে তা সাড়ে ১৪ শতাংশ কমে আসে এক হাজার ২৭৭ কোটি ডলার, যা ছিল আগের ছয় অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রেমিট্যান্সের উৎস দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দা এবং মোবাইল ব্যাংকিংসহ অন্যান্য মাধ্যমে হুন্ডি প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈধপথে প্রবাসীদের অর্থ কম এসছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রায় পুরো সময় ধরে পড়তির দিকে থাকা রেমিট্যান্স চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট) কিছুটা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায়। কিন্তু সেপ্টেম্বরে ফের তা কমে যায়। অক্টোবর, নভেম্বর এবং সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে তা ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা। দেশের রেমিট্যান্সের অর্ধেকের বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ-সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে।

"