প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

আছে সাফল্য ব্যর্থতাও কম নয়

প্রকাশ | ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

ঘটনাবহুল আরেকটি বছর ২০১৭। নানা কারণে আলোচিত, সমালোচিত এবং প্রাপ্তি-ব্যর্থতার বছরও এটি। এক পঞ্জিকা বছরে স্বাধীনতা-পরবর্তী এত ঘটনা বিরল। একেকটি ইস্যু যেন ইতিহাস। কয়েকটি ঘটনা সরকারকে যেমন সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে, তেমনি কিছু ঘটনা সরকারের অবস্থানকে তলানিতে নিয়ে গেছে। আবার ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মানচিত্রকে নতুন করে পরিচয় করে দিয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গন, নির্বাচন কমিশন এবং সেবা খাতও বিতর্কিত অনেক ঘটনার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনবহুল এই বছরটি নানান ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এমন কিছু ইতিবাচক ঘটনা হচ্ছেÑবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেসকোর স্বীকৃতি প্রদান, ইন্টার পার্লামেন্টারিয়ান ইউনিয়ন (আইপিইউ) ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) সম্মেলনের সফল সমাপ্তি, রোহিঙ্গানিধনে মিয়ানমার সরকারের বর্বরোচিত হামলা ও নির্যাতিতদের আশ্রয় দেওয়া এবং মহানুভবতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্রিটিশ একটি পত্রিকায় ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ স্বীকৃতি ঘোষণা করা এবং রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা।

নেতিবাচক ও সমালোচিত ইস্যুর মধ্যে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘জিয়া অরফানেজ চ্যারিটি’ দুর্নীতি মামলায় বছরজুড়ে দফায় দফায় আদালতে হাজিরা দেওয়া, আলোচিত ষোড়শ সংশোধনীর রায় এবং এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ, টাকা লুটপাটে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের নগ্ন-হস্তক্ষেপ, ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্ব গতি ও চালের বাজারে অস্থিরতা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দাদের ওপর কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই গৃহকর বৃদ্ধি।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইউনেসকোর স্বীকৃতি :

স্বাধীন দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ঐতিহাসিক ভাষণটি দেন। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ওই ভাষণের স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এসে। বাঙালি জাতির জন্য এই অর্জন বিরল। এই নিয়ে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি হয়নি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবং সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপি সবাই এই অর্জনকে সাধুবাদ জানায়। এই নিয়ে রাজনৈতিক সেমিনার ও সংসদ অধিবেশন নিয়ে সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেসকোর ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে’ যুক্ত হওয়ায় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়। তোফায়েল আহমেদ তার প্রস্তাবে জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রস্তাবগুলো দু’বছর ধরে পর্যালোচনার পর ইউনেসকোর উপদেষ্টা কমিটি তাদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ আজ তা প্রমাণিত। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ আলোচনায় বলেন, আওয়ামী লীগকে বলব, বঙ্গবন্ধুকে আপনারা কুক্ষিগত করে রাখবেন না। তাকে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিন। বিশ্বের কাছে ছড়িয়ে দিন। তাহলে আমরা তাকে জাতির জনক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব।

রোহিঙ্গা আশ্রয়ে বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম :

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়কে নিধনে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে। অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, লুটপাট এবং জ্বালাওপোড়াও কোনো কিছুর কমতি রাখেনি তারা। জাতিসংঘ ও বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলো মিয়ানমার সরকারের এই হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান জান্তা সরকারও নিরস্ত্র বাঙালির ওপর এভাবেই গণহত্যা চালিয়েছিল। তখন ভারত সরকার বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় স্বাধীন এই দেশের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। মিয়ানমার সরকারে এই নিধনযজ্ঞে সহায়-সম্বল হারানো মানুষের পাশে দাঁড়ায় বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর জন্য বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। বিশ্বনেতারা প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। ব্রিটিশ পত্রিকা শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ ঘোষণা করে। এই নিয়ে সিপিএ সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন এবং শক্ত বিবৃতি আদায় করা হয়। এখন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে চলছে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সমঝোতা; কবে থেকে তাদের প্রত্যাবর্তন শুরু হবে। এই নিয়ে বিদায়ী বছরে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বেড়েছে বিশ্বদরবারে।

ঢাকায় আইপিইউ ও সিপিএর সফল সম্মেলন :

২০১৬ সালে হলি আর্টিজানসহ বিভিন্ন স্থাপনায় জঙ্গি হামলার পর বিদায়ী বছরের মধ্য পর্যন্ত দেশবাসীর পাশাপাশি বিশ্ব-সম্প্রদায়ের কাছে আতঙ্কের নাম ছিল বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সরকারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে সেই শঙ্কা কেটে যায়। তবে জঙ্গি হামলাকে উপেক্ষা করে ইন্টার পার্লামেন্টারিয়ান ইউনিয়ন (আইপিইউ) এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিইউ) দুটি সম্মেলন এপ্রিল ও নভেম্বরে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ঢাকায় এ দুটি সম্মেলনে বাংলাদেশের অর্জন ছিল অনেক।

রাসিক নির্বাচনে ইসি ও সরকারে স্বস্তি :

বছরের শেষে রংপুর সিটি নির্বাচন নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং সরকারে স্বস্তি এনে দিয়েছে। সরকার সমর্থিক প্রার্থী এবং বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হয়েছে রাজনৈতিকভাবে তলানিতে থাকা জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থীর কাছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও সরকার সমর্থিত প্রার্থী কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব দেখানোর চেষ্টায় করেনি। গত ২২ ডিসেম্বর ওই নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে নির্বাচন কমিশন ও সরকারে। পাশাপাশি রাজনীতিতেও নতুন মেরুকরণ দেখা দিয়েছে। তবে গত ২৮ ডিসেম্বর কয়েকটি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাসিকের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলেও এই পর্যায়ের নির্বাচনে ইসির সুনাম ক্ষুণœ হয়নি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক :

‘গ্রাহকরা ব্যাংকে এক লাখ টাকা রাখলে আবগারি শুল্ক গুনতে হবে’Ñঅর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাজেট প্রস্তাবে এই সিদ্ধান্তে সংসদ এবং সংসদের বাইরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বেশি উত্তাপ ছড়ায় সংসদে।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে অনড় থাকায় অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে ফজলুল করিম সেলিম সংসদে বলেন, আপনার দায়িত্ব বাজেট পেশ করা। এই সংসদের ৩৫০ জন জনগণের প্রতিনিধি ঠিক করবেন জনগণের কল্যাণে কোনটা থাকবে, কোনটা থাকবে না। আপনি একগুঁয়েমি সিস্টেম বন্ধ করেন, কথা কম বলেন। সেলিম বলেন, অর্থমন্ত্রীর কিছু কথাবার্তায় সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। আগেও তিনি অর্থমন্ত্রীকে কথা কম বলার পরামর্শ দিয়েছেন জানিয়ে সেলিম বলেন, আপনার বয়স হয়ে গেছে, কখন কী বলে ফেলেন ঠিক থাকে না। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বাজেট নিয়ে সারা দেশে আলোচনার ঝড় চলছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এটা নির্বাচনী বাজেট নয়। তাহলে মাননীয় অর্থমন্ত্রী কবে নির্বাচনী বাজেট দেবেন?

ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটিতে গৃহকর বৃদ্ধি :

সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) বৃদ্ধি নিয়ে হইচই পড়ে যায়। মাঠের রাজনীতির বাইরে ছিল না সংসদও। গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে মন্ত্রী-এমপিরা। তারা বলেন, নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্তে সরকারের ওপর জনগণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

এ ইস্যুতে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি নিয়ে যে কথাটা উঠেছে তা সঠিক। তিনি নিজে টিভিতে দেখেছেন বেশ কিছু লোক এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। ট্যাক্স বাড়বেÑএটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সব কিছুই দিন দিন বাড়ে। সম্ভবত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর ধরে ট্যাক্স বাড়ায় না। কিন্তু সেটা যদি একসঙ্গে বাড়ানো হয়, সেটা মানুষ গ্রহণ করবে না। তিনি আরো বলেন, তারা জনপ্রতিনিধি, জনগণের কথা বলেন। জনগণের সুখ-দুঃখের ভাগী তারা। হঠাৎ যার ট্যাক্স ছিল ৮ হাজার টাকা, তার যদি এখন ৭২ হাজার টাকা দিতে হয় আকস্মিকভাবেই। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া হবে। তার নিজেরও একটা বাড়ি আছে বনানীতে। এটা মনে হয় পুনঃবিবেচনা করা প্রয়োজন।

ষোড়শ সংশোধনীর রায় ও এস কে সিনার পদত্যাগ :

ফিরে দেখা বছরে যত ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিল সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে উচ্চ আদালতের দেওয়া রায়। এ রায়ে স্বাধীনতা অর্জন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাসহ অনেক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জন একক কোনো ব্যক্তির কারণে আসেনি রায়ের এ পর্যবেক্ষণে ক্ষুব্ধ হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই নিয়ে তুলকালাম কান্ড শুরু হয়। এ রায়কে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে পদত্যাগ করতে হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সম্প্রতি আপিল করেছে।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ তুলে সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার দ্বারা গুরুতর অসদাচরণের কথাই আমাকে বলতে হয়। শুধু কয়েক মাস আগে প্রধান বিচারপতি সিনহার আদেশে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অবৈধভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত না করার জন্য বলেছেন। হাস্যকর কারণের ওপরে নির্ভর করে তিনি বলেছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দায়িত্ব পালনকালে অনেক কষ্ট করে মৃত্যুদন্ডসহ অনেক বিচারের ব্যবস্থা করেছেন, রায় দিয়েছেন। তদন্ত যদি তার বিরুদ্ধে করা হয়, সে বিচারের বিষয়ও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। মতিয়া চৌধুরী আরো বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কাছাকাছি পাকিস্তানে আছে। যে পাকিস্তানকে বাংলাদেশ গোরস্তানে পাঠিয়েছে, সে পাকিস্তান হলো প্রধান বিচারপতির আদর্শ। জনগণ কৈফিয়ত নেবেই নেবে। কেউ বিচারের ঊর্ধ্বে নয়। মতিয়া চৌধুরী ড. কামাল হোসেন ও আমীর-উল ইসলামেরও কঠোর সমালোচনা করেন।

বছরজুড়ে ছিল চালের বাজার অস্থিতিশীল :

অনেক অর্জনের মধ্যে সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছে বছরজুড়ে চালের বাজারের অস্থিতিশীলতা। নি¤œ-মধ্যবৃত্ত সবাই এই চালের ওপর নির্ভরশীল, তাই সরকার উদ্যোগ নিয়েও এখানে সফল হতে পারেনি। বিগত বছরগুলোতে মোটা চালের সর্বোচ্চ দাম ৩০ টাকা হলেও বিদায়ী বছরে এ চাল কিনতে হয়েছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা দরে। আর চিকন চাল বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকার ওপরে। এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সরকার বছর শেষে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনলেও তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নেই। এই নিয়ে বছরজুড়ে বেকায়দা থাকতে হয়েছে সরকারকে।

বছরজুড়ে অস্থির ছিল ব্যাংক খাত :

সোনালী ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকা হলমার্কের লুটপাটের মধ্য দিয়ে ব্যাংকিং খাতের গোমর ফাঁস হয়। শুরুটা রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালি ব্যাংক দিয়ে হলেও বেসরকারি ব্যাংকের লুটপাট ও দুর্নীতি রূপকথার গল্পকে হার মানিয়েছে। বেসিক ব্যাংকও কম যায়নি। বাচ্চু কমিশন এই ব্যাংকটিকে ধ্বংস করে দিয়ে যায়। এখন আবদুল হাই বাচ্চু ওই দুর্নীতির অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজিরা দিচ্ছেন। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থাপকদের স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠার পেছনে ছিল রাজনীতি। দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে পদ হারাতে হয়েছে কয়েকটি ব্যাংকের এমডিকে।

সোনালী ও বেসিক ব্যাংকের পর ফারমার্স ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকও অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যর্থতায় এখন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে ব্যাংকিং কার্যক্রম।

বিশেষ করে খেলাপি ঋণ আদায় ও ঋণ বিতরণে অনিয়ম বন্ধ করতে গত প্রায় দুই বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি পাঁচ ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগে ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং ব্যাংকের নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক মাহাবুবুল হক চিশতীকে। সর্বশেষ এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে পরিবর্তন এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে ৪৮টি ব্যাংকের মধ্যে ১৩টির আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ। এই ১৩ ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ও বিশেষায়িত ব্যাংক ৮টি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে দি ফারমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিস্থিতি কয়েক বছর ধরে খারাপ হচ্ছে। এমনকি দুই বছর ধরে এই ১৩ ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসিয়েও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

আদালতে হাজিরা দিয়ে বছর পার খালেদার :

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রাজধানীর বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে হাজিরা দিয়েই বছর পার করতে হয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। নতুন বছরের শুরু হবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে আদালতে হাজিরা দিয়েই। এ মামলার যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ। এখন রায় দেওয়ার পালা। বেগম খালেদা জিয়া নিজে এই মামলায় নির্দোষ দাবি করেছেন। তার আইনজীবী আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছেন, বিশেষ জায়গা থেকে ওহি নাজিল না হলে খালাস পাবেন জিয়া ট্রাস্ট মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া।

"