অরব বসন্ত

মাটি পোড়াবার ঘ্রাণ

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২০, ০০:০০

সৈয়দ নূরুল আলম

কবির মধ্যে জেগে থাকা নৈঃশব্দ্য, মনোজগতের হর্ষ বিষাদ, নৈসর্গিক সৌন্দর্য এসব কবিতার অবয়ব নিয়ে যখন পাঠকের চেতনায় ফুটতে থাকে জ্বলন্ত নক্ষত্র হয়ে, তখন সেই কবিতায়, পাঠকের একটা ভালো লাগার জায়গা তৈরি হয়। পাঠক কবিতায় মগ্ন হয় নিমগ্নভাবে। এটাই কবির কৃতিত্ব। মাহবুব মোর্শেদ তার প্রতিটি কবিতায় সে কৃতিত্ব ধরে রেখেছেন।

‘অরব বসন্ত’ গ্রন্থে ৬১টি কবিতা আছে। প্রায় প্রতিটি কবিতাই আমাদের চেনাজগৎ যেমন : সবুজ ফুলের গন্ধ, ও শ্রাবণ, এই প্রেম, জোছনা, অন্ধকার, ফড়িং, কুকুর, বিড়াল এসব নিয়ে লেখা।

কবি মাত্রই কবিতার শরীর নিয়ে, শব্দের বিন্যাস নিয়ে, বাক্যের গঠন নিয়ে নিরন্তর করেন নিরীক্ষা। কবি মাহবুব মোর্শেদও এর বাইরে নন। তিনি আলোচ্য কাব্যগ্রন্থে কবিতার শরীর নিয়ে, বাক্যের বিন্যাস নিয়ে নানাভাবে নিরীক্ষা করেছেন। তাইতো, গ্রন্থে চার লাইনের কবিতা যেমন আছে (কবিতা, মেলা), ১৩৬ লাইনের কবিতাও আছে (কবিতা, সমুদ্র পর্ব)। এতে করে কবি নিজেকে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে ভেঙেছেন, গড়েছেন। আর এ সময়ের কবিরা যেমন আত্মজৈবনিকতার মধ্য দিয়ে নিজের চেতনাবোধের অস্তিত্বকে খুঁজেন, মাহবুব মোর্শেদও এর ব্যতিক্রম নন। তাই তিনি লেখেন, ‘তোমার চোখের দিকে দেখি/মায়াময়ী, অনুপম আঁখিতে তাকিয়ে রয়েছে। কত যে বলতে চেয়েছ আধ খোলা/ঠোঁটে। মৃদুমন্দ হাসিতে ঝরছে কত যে ফুল তোমার মুখের পানে তাকিয়ে/থাকি। স্থির ফটোগ্রাফে বাক্সময় মুখখানি। বারবার দেখি। প্রতিবার ফটোগ্রাফারের/প্রতি ঈর্ষায় বিষ ঝরে আমার নয়নে’ (কবিতা, ফটোগ্রাফার)।

এ গ্রন্থে মাহবুব মোর্শেদের বেশ কয়েকটি কবিতা আছে; যা স্বাদে-গন্ধে, আকারে-ইঙ্গিতে কবিতা ও গল্পের মিশেল। যেমন : ‘গেরিলা’ ‘অর্থাৎ, ঠিকঠাক বৃষ্টি হচ্ছে’ ‘রিকা পর্ব’ ‘বিড়াল’ ইত্যাদি। পাঠক এখানে কাব্যরস বৃত্তের বাইরে এসে, গল্পরসে জিব ভেজাতে পারবেন। চমৎকার এ উপস্থাপনা এবং নির্মাণ কৌশল।

কবিতায় প্রেম থাকবে, থাকবে শিহরন জাগাবার মতো আবেগ, চিমটি কাটার মতো অনুভূতি। তবে এগুলোর বোধ, উপস্থাপন কৌশল, শব্দ প্রক্ষেপণ একেক কবির একেক ধরনের। মাহবুব মোর্শেদের বোধ এ রকম : ‘এই প্রেম, সমুদ্র সমাধির ভেতর চিৎ হয়ে/শুয়ে থাকা। পৃথিবীর নীল বাথটাবে/বিছানার মতো ঘুম/মৃত্যুর মতো মগ্ন/জলমগ্ন প্রেমের কুসুম’ (কবিতা, সমুদ্র পর্ব)। যা অন্য পাঁচজন কবি থেকে আলাদা। ভিন্নতর। বইটি প্রকাশ করেছে বৈভব। দাম ৪০০ টাকা।

 

"