সুকুমার রায়

সব যুগের সব পাঠকের

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

অলোক আচার্য

সাহিত্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশাল অংশ কবিতা ও ছড়া। ছড়া, কবিতা বা গল্প-উপন্যাস পাঠকের মনে আনন্দের খোরাক জোগায়। এর ভেতর ছড়া আরো বেশি আনন্দের উৎস। ছন্দের সঙ্গে ছন্দ মিল এবং শব্দের নতুনত্ব ছড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মজার মজার সব ছড়া দিয়ে বাংলা সাহিত্য আজ সমৃদ্ধ এবং তা আরো সমৃদ্ধতর হয়ে উঠছে। নতুন নতুন ছড়াকারদের সাহিত্য জগতে আবির্ভাব ঘটছে। যত ছড়াকারই আসুক, বাংলা সাহিত্যে ছড়ার কথা বললে প্রথমেই যার নাম আসে তিনি সুকুমার রায়। মজার মজার কবিতার কথা মনে হলে যার নাম মনে আসে তিনিও সুকুমার রায়। যার হাতের ছোঁয়ায় বাংলা সাহিত্য পূর্ণতা পেয়েছে। ছড়ার জগতে এসেছে নতুনত্ব। ঘোর লাগা সব ছন্দ দিয়ে তার কবিতা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে কবিতাকেও তিনি নিজের মতো করে সাজিয়েছেন।

সুকুমারের ছড়া, কবিতায় ব্যবহার করা নতুন নতুন শব্দ, শব্দের প্রয়োগে নিপুণতা, ছন্দ তৈরির ভিন্নতা, ছড়ার ভেতরের রসবোধ অন্যসব কবি থেকে তাকে আজও আলাদা করে রেখেছে। এত চমৎকার সব ছড়া, কবিতার জন্ম তার হাতে হয়েছে যে, আজ সেসব মানুষের অন্তরে নিখাদ আনন্দের উৎস হয়ে আছে। বাংলা সাহিত্যের ক্ষণজন্মা লেখক কবিদের মধ্যে তিনিও একজন। ছড়ার জগতে এত বৈচিত্র্য আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। তার প্রতিটি কবিতাই পাঠককে নতুন কিছু উপহার দিয়েছে। গল্প বলার মতো করে তিনি ছন্দ টেনেছেন। কবিতা লিখতে লিখতেই তিনি জন্ম দিয়েছেন নতুন নতুন সব চরিত্রের। সেসব চরিত্রকে টেনেছেন তার ছড়া, কবিতার মধ্যে।

তার লেখায় ছিল সুনিপুণ গতি ও ছন্দের বৈচিত্র্যতা, যা সহজেই পাঠককে মুগ্ধ করতে পেরেছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ এমন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি সুকুমার রায়ের লেখা পাঠ করে আনন্দ পাননি। মানুষকে আনন্দ দিতে, মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তার লেখার জুড়ি মেলা ভার। এটাই তার সফলতা। এখানেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা। মানুষের জীবনের নিত্যদিনকার ঘটনায়, চলমান জীবনধারণের বিচিত্রতা নিয়েই তিনি লিখেছেন। তার ছড়া, কবিতার পাশাপাশি গল্পগুলোও অত্যন্ত চমৎকার এবং মনোমুগ্ধকর। তার বেশির ভাগ গল্প ও প্রবন্ধে বিজ্ঞানের ছোঁয়া পাওয়া যায়। তার লেখার এই অসীম আনন্দের উৎস নিয়ে বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন, ‘সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বড়দের জন্য লিখলেও পড়ে আনন্দ পায় ছোটরা। তেমনি সুকুমার রায় ছোটদের জন্য লিখলেও তার লেখা পড়ে আনন্দ পায় বড়রা।’ এর থেকে সহজ ভাষায় সুকুমার রায়ের লেখার এবং তার ভাব প্রকাশের ওপর মন্তব্য আর হয় না। সত্যি সত্যিই তা বড়দের মনে রসের জোগান দিতে পেরেছে। সব বয়সি পাঠক তার লেখায় আনন্দ পায়। সব বয়সি পাঠকের কাছেই তিনি সমান প্রিয়। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছেÑ আবোল তাবোল, হ য ব র ল, পাগলা দাশু, অবাক জলপান, শব্দ কল্প দ্রুম, লক্ষণের শক্তিশেল, খাই খাই।

 

"