আল মাহমুদ ও মুক্তিযুদ্ধ

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

মুসা আল হাফিজ

কবির আত্মকথন দিয়েই শুরু করা যাক। পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যকাগজের জন্য কবি কাজী জহিরুল ইসলাম একাত্তরটি প্রশ্ন নিয়ে মুখোমুখি হন আল মাহমুদের। একটি প্রশ্ন ছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক। দীর্ঘ জবাব দিয়েছিলেন আল মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘তখন আমি যেমন কাগজে কাজ করতাম, আমার সমসাময়িকদের মধ্যে শামসুর রাহমান, আহমেদ হুমায়ুন, হাসান হাফিজুর রহমান, ফজল শাহাবুদ্দীনও খবরের কাগজেরই লোক ছিলেন, দৈনিক পাকিস্তানে কাজ করতেন। তারা কেউ কিন্তু আমার মতো মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য ভারত পালিয়ে যায়নি। সরাসরি বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের সঙ্গে কাজও করেনি।’

আল মাহমুদ জনতার প্রাণের আওয়াজে কণ্ঠ মেলালেন। বাংলাদেশের জাগ্রত সত্তার সহযাত্রী হলেন। দৈনিক ইত্তেফাকের চাকরি ত্যাগ করে তিনি আগরতলার প্রবাসী সরকারের সাহায্যে কলকাতা গমন করলেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অধিকাংশ কবি-সাহিত্যিক তখন কলকাতাগামী। এ সাক্ষাৎকারে আল মাহমুদ জানান, ‘সেই সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার ছিলেন আমার এক আত্মীয়, এইচ টি ইমাম। এক্সাইল সরকার গঠিত হলে তিনি এর মুখ্য সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার সঙ্গে আমি আগরতলায় দেখা করি। তারপর ওখান থেকে গৌহাটি হয়ে কলকাতায় যাই। এরপর শুরু হয়

আমার মুক্তিযুদ্ধজীবন।’

সেখানে যাওয়ার পরে কবিতা লেখা থেমে গেল প্রায়। কবির ভাষায়Ñ ‘এর মধ্যে কি আর লেখালেখি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব? আমি চেষ্টাও করিনি। তখন তো একটাই স্বপ্ন, স্বাধীনতা। পুরো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আমি একটিমাত্র কবিতা লিখেছি, কবিতাটির নাম ক্যামোফ্লেজ।’

মুক্তসংগ্রামের পক্ষে অবিস্মরণীয় এক কবিতা ক্যামোফ্লেজ। ক্যামোফ্লেজ বা ছদ্মবেশ একটি অতি প্রাচীন শিল্প। ‘হয় মরো না হয় মারো’ প্রাণিজগতের এই রীতির কারণেই প্রাণীরা নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদে নানা পথ বেছে নেয়। বাঙালিদের তিনি বেঁচে থাকা ও মুক্ত হওয়ার জন্য হয় জেতা নয়, মরার জন্য আহ্বান জানান কবিতার নন্দনে। সন্ততিকে বাঁচাতে গেরিলাযুদ্ধের কলা শিখিয়ে দিচ্ছে আল মাহমুদের কবিতাÑ

‘নিজেকে বাঁচাতে হলে পরে নাও হরিৎ পোশাক/সবুজ শাড়িটি পরো ম্যাচ করে, প্রজাপতিরা যেমন/জন্ম-জন্মান্তর ধরে হয়ে থাকে পাতার মতোন।/প্রাণের ওপরে আজ লতাগুল্ম পত্রগুচ্ছ ধরে/তোমাকে বাঁচাতে হবে হতভম্ব সন্ততি তোমার।’ (ক্যামোফ্লেজ)

কবিতাটি সেøাগানধর্মী ছিল না, কিন্তু ছিল অন্তর্ভেদী। চেতনাপ্লাবী। অন্তর্লাবণ্যে মোহনীয় কিন্তু অগ্নিস্রাবী। প্রতীকী। যুদ্ধের কবিতা নয়, এটি যুদ্ধলিপ্ত কবিতা। কবিতাটি যেন প্রত্যক্ষ যুদ্ধমাঠে কথা বলছে, কমান্ডিং করছে, শত্রুদের ওপরে চোখ রাখছে, সহযোদ্ধাদের বাতলে দিচ্ছে অভিনব কৌশল। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন লিপ্তধারার কবিতা রচিত হয়েছে খুব কমই। আল মাহমুদের ক্যামোফ্লেজ প্রতিটি সৈনিকের শ্বাস-প্রশ্বাসের, সংকট ও যুদ্ধধারার সহযাত্রী। কবিতাটি নজরদারির অদ্ভুত ক্ষমতা প্রদর্শন করে। কবি মনের দিক দিয়ে কতটা যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন, দেখিয়ে দেয়।

কবিতাটি নিবিড় সংকেতের মতো জানিয়ে দেয়, যেহেতু হানাদার শত্রু এবং তাদের এ দেশীয় দোসররা গোপনে পরেছে ‘সবুজ কামিজ’, শিরস্ত্রাণে লতাপাতা দিয়ে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে, এমনকি কামানের ওপরেও বল্লম ঢেকে রেখেছে, অতএব মুক্তিযোদ্ধাদের কৌশলী হতে হবে আরো। বুঝতে হবে, শত্রুরাÑ

‘ঢেকে রেখে/নখ/দাঁত/লিঙ্গ/হিংসা/বন্দুকের নল/হয়ে গেছে নিরাসক্ত বিষকাটালির ছোটো ঝোপ।’ (ক্যামোফ্লেজ)

অতএব হে সহযোদ্ধারা, সাবধান! কৌশলী হও! প্রাণপণ লড়াইরত বেয়ারের আত্মরক্ষা কৌশল রপ্ত করো।

‘নিসর্গের ঢাল ধরো বক্ষস্থলে/যেন হত্যাকারীরা এখন/ভাবে বৃক্ষরাজি বুঝি/বাতাসে দোলায় ফুল/অবিরাম পুষ্পের বাহার।’ (ক্যামোফ্লেজ)

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আল মাহমুদ অগ্নিস্রাবী ছিলেন, কিন্তু অন্তর্লাবণ্যের প্রতি ছিলেন সমান যতœবান। চেতনাদুন্দুভির উত্তাপ ও কাব্যিক লাবণ্যের যৌথ উদ্ভাসে জ্বলজ্বল করে তার কবিতা, যখন তিনি বলেনÑ

‘বাঁচাও বাঁচাও বলে/এশিয়ার মানচিত্রে কাতর/তোমার চিৎকার শুন দোলে বৃক্ষ/

নিসর্গ, নিয়ম।’ (ক্যামোফ্লেজ)

শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয়, ভাষা আন্দোলনেও তিনি ছিলেন একই চরিত্রে উজ্জ্বল। ভাষা আন্দোলনের ফেরারি পাখি বলা হয় আল মাহমুদকে। ১৯৫২ সালে যখন এ আন্দোলন তুঙ্গে, আল মাহমুদ তখন নবম শ্রেণির ছাত্র। অগ্নিস্রাবী, কিন্তু লাবণ্যময় চারটি পঙ্ক্তি লিখলেন ভাষা আন্দোলনের পক্ষে। জনতাকে নাড়িয়ে দেওয়ার কী দুর্মর শক্তি ছিল পঙ্ক্তিগুলোয়। বিবাড়িয়া থেকে ভাষা আন্দোলন কমিটির প্রচারপত্রে এ চারটি লাইন হলো প্রকাশিত। তারপর দেশপ্রেমিকরা যেমন উদ্বুদ্ধ হলো, হানাদাররা হলো শঙ্কিত। আল মাহমুদকে খোঁজতে লাগল পাকিস্তান পুলিশ। ভয়ংকর এক আসামি তিনি। এমন আগুন ছড়ান জনতার মনে, যা তাদেরকে অস্বীকার করতে শেখায় পাকিস্তানি বন্ধন। আল মাহমুদ; নবম শ্রেণিতে পড়–য়া কিশোর, মাতৃভাষার দায় কাঁধে নিয়ে আত্মগোপন করলেন। বহু দিন তাকে বাঁচতে হলো লুকিয়ে লুকিয়ে।

লুকিয়ে লুকিয়ে থাকেন, কিন্তু বাংলা ভাষার পক্ষে ছড়াতে থাকেন প্রাণের প্ররোচনা। ১৯৫৪ সালে কবি আজিজুল হাকিম ও কবি আবদুর রশিদ ওয়াসেকপুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় একুশে ফেব্রুয়ারির একটি জাতীয় সংকলন। নাম ছিল একুশের কবিতা। ঐতিহাসিক সে সংকলনে স্থান পায় আল মাহমুদের লাবণ্যময়-অগ্নিস্রাবী এক কবিতাÑ

‘যদি পারতাম’!

ভাষা শহীদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা, চেতনার প্রগাঢ়

উন্মীলন এবং

ব্যথা ও হৃদয়ানলের তীব্রশিখা জ্বালিয়ে আল মাহমুদের মর্মবিদারী উচ্চারণ হয় ধ্বনিত

‘আহা, আমি যদি হাত বুলিয়ে দিতে পারতাম/ওদের রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্নগুলোতে/যদি পারতাম/ওদের শেষ আর্তনাদকে বন্দি করে রাখতে/কোনো অলৌকিক শব্দের প্রকারে/তবে নিশ্চয়ই নিষ্ঠুর মৃত্যুচিৎকারে/শতাব্দীর পর শতাব্দীকে/অতন্দ্রপ্রহরীর মতো সজাগ করে/রাখা যেত।’ (যদি পারতাম)

ভাষা আন্দোলনকে কাব্যিক ভাষাদানে আল মাহমুদের যে সপারগতা, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে পরবর্তী কাব্যসংকলনগুলো। রাজধানী কিংবা মফস্বলে, যেখানেই কোনো সংকলন হচ্ছিল, আল মাহমুদের কবিতা সেখানে বন্দিত অবস্থানে জায়গা করে নিচ্ছিল। ১৯৭০-এর ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত একুশে স্মরণ সংকলনে যেমন আলাদা মর্যাদাসহ স্থান পেয়েছিল তার কবিতা, তেমনি ১৯৭১-এর ফেব্রুয়ারিতে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত একুশের সংকলনে ছিল তার কবিতা। ভাষা আন্দোলন তাকে গ্রাম থেকে নিয়ে গিয়েছিল ঢাকায়, ভাষা আন্দোলনই তাকে করে তুলে বাঙালির মুক্তিপ্রয়াসের পোস্টার।

ঊনসত্তরের গণতুফানের ঢেউ, আকুলতা আর আগুন আল মাহমুদে বাক্সময়। তার ছড়া আঙ্গিকের দুটি কবিতা গোটা ঊনসত্তরের সংগ্রামকে করে প্রতিনিধিত্ব। ‘শুয়োরমুখো ট্রাকে’র প্রতীকে তিনি উপস্থাপন করেন আইয়ুবী দুঃশাসনকে এবং শহীদ আসাদুজ্জামান ও শহীদ মতিউর রহমানের আত্মদানে যে উজ্জীবন, যে প্রাণপাতালের সাড়া, তাতে নবরূপে জেগে ওঠার আহ্বান জানান কবি। ডাক দেন জনতাকে। আগুন জ্বেলে দেওয়ার দায়িত্ব তুলে দেন তারুণ্যের হাতে। হ্যাঁ, তারুণ্যই তো জ্বেলেছিল আগুন!

ট্রাকের মাথায় আগুন জ্বালানো জনতার প্রতিরোধকে কবি ‘লাল মোরগের পাখার ঝাপট’ এবং সামরিক শাসনে শৃঙ্খলিত দেশকে ‘খোঁয়াড়’ রূপে চিহ্নিত করেন। প্রতীকী চিত্রকল্পের মাধ্যমে ট্রাকরূপী দুঃশাসনের মাথা একেবারে পুড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যান করে খোঁয়াড় ভেঙে স্বাধীন হওয়ার জলদমন্ত্র উচ্চারণ করলেন। বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম নিতে যাচ্ছে, তখনই আল মাহমুদ ঘোষণা করলেন। ঘোষণা করলেন পাকিস্তানি শাসকদের অন্যতম প্রচারকেন্দ্র সেকালের বাংলা একাডেমিতে, একটি মূল প্রবন্ধে। আমরা বিষযটি জানবো শান্তনু কায়সারের জবানিতে। ‘চলো এই ফাঁকে খেয়ে নিই’ শীর্ষক স্মৃতিচারণে তিনি লেখেনÑ কিন্তু ঝুঁঁকে পড়া দৃষ্টিকোণ সত্ত্বেও এই প্রবন্ধে আল মাহমুদ দুটি ভাবষ্যদ্বাণীও করেছিলেন। আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ সৃষ্টির সম্ভাবনা ও তার নিসর্গের ফাঁকে বন্দুকের নল এবং প্রতিশ্রুতিশীল বা সম্ভাবনাময় কবি হিসেবে নির্মলেন্দু গুণের আভির্ভাব। (মাসিক উত্তরাধিকার, ভাদ্র, ১৪১৭)

আল মাহমুদের উভয় ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হয় অনতিবিলম্বে। দ্রুতই ঘটনাচক্র এগিয়ে যায়

একাত্তরের পটভূমিতে।

শুরু হয় স্বাধীনতার সর্বপ্লাবী প্রয়াস। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে লাল দিনগুলো। আমরা জানি, আল মাহমুদ তখন কলকাতায়। মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা বিভাগের স্টাফ অফিসার ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠনে রাখছিলেন সাহসী ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধই যে আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী, নির্মলেন্দু গুণকে কলকাতায় নিয়ে যায়, সেটা উঠে এসেছে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাষ্যে। তিনি তার আত্মজীবনী ‘অর্ধেক জীবন’-এর এক জায়গায় লিখেছেনÑ ‘পঁচিশে মার্চের পর হঠাৎ পূর্ব পাকিস্তানই হয়ে উঠল এখানকার প্রধান সংবাদ। প্রথম প্রথম এত সব বীভৎস কা-ের বিবরণ অবিশ্বাস্য মনে হতো। নৃশংসতারও তো একটা মাত্রা আছে। তা ছাড়িয়ে গেলে সবই যেন অসম্ভব মনে হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও একই রকম বিবরণ দিতে লাগল এবং হত্যা ও ধ্বংসলীলার ছবি, ছবি তো মিথ্যে হতে পারে না। কিছুদিন পরেই যেমন পূর্ব পাকিস্তান থেকে বহুসংখ্যক বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতা চলে আসতে শুরু করলেন, তেমনই লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ প্রাণের দায়ে আশ্রয় নিতে এলো সীমান্তের এপারে। আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী, নির্মলেন্দু গুণ প্রমুখ কবিদের সেই প্রথম দেখলাম।’

কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত ‘সমগ্রতায় আল মাহমুদ’ শীর্ষক লেখার এক স্থানে লিখেছেনÑ ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সে (আল মাহমুদ) যখন কলকাতায়, তখন এখানে মার্কিন দূতাবাসের এক নৈশ পানসভায় সে তার কৈশোরের ঈশ্বর বুদ্ধদেব বসুকে সরাসরি দেখতে পাবে বলে সেখানে গিয়েছিল। কিন্তু বুদ্ধদেবের অভিব্যক্তিহীন হিটাইট যাজকের মতো মুখ ও লড়াকু বাংলাদেশ সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন চেহারা তার স্বপ্নভঙ্গ করেছিল এবং যাবতীয় জ্বালা বিক্ষোভ নিয়ে একটি কবিতা লিখেছে সে, ‘বুদ্ধদেব বসুর সঙ্গে সাক্ষাৎকার’। (কবিতা প্রতি মাসে, জুলাই ২০০৫; কলকাতা, সম্পাদক বীজেশ সাহা)। বুদ্ধদেব বসুকে নিয়ে এমন কবিতা তিনি কেন লিখলেন? সে প্রশ্ন তোলে অনেকেই পরবর্তীতে আল মাহমুদকে আক্রমণ করেছেন। আসলে মজলুম স্বদেশের প্রতি উপেক্ষায় ব্যথিত হয়ে আল মাহমুদের ভাষা বুদ্ধদেবের প্রতি তির্যক হয়ে উঠেছিল। আল মাহমুদ তখন সমর্পিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনালোকে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ছিলেন একজন শব্দসৈনিক। শব্দ দিয়ে, কলম দিয়ে, চিন্তা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে প্রণোদিত করার যে লড়াই, এতে আল মাহমুদ ছিলেন নিবেদিত এক যোদ্ধা। পরবর্তীতে তিনি যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস উপমহাদেশ ও কাবিলের বোন রচনা করলেন, তা শুধু একজন ঔপন্যাসিকের কল্পনাফসল ছিল না, তাতে যুক্ত ছিল তার সেই যুদ্ধস্মৃতি, যুদ্ধপাঠ!

 

"