যুগল ভাসে প্রেমের স্রোতে

প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

জমাতুল ইসলাম পরাগ

কবিতার স্রোতে ভাসতে ভাসতে যদি কেউ আঁজলা ভরে প্রেমসুধা পান করতে চায়, তার একবারের জন্য হলেও ‘যুগল প্রেমের স্রোতে’ ভাসা উচিত। রুচিশীল প্রেমিকমনা পাঠকের মনকে অপূর্ণ রাখার কোনো ত্রুটি রাখেননি গ্রন্থটির কবিদ্বয় জেবুন নেসা মায়া ও তন্ময় আলমগীর।

প্রেমের বানে ভাসতে ভাসতে যেকোনো প্রেমিক তার দয়িতা-চরণে প্রেমার্র্ঘ্য তুলে দিতে চায়। তাই তারা আবেগ ও উত্তেজনার প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে প্রগাঢ় প্রেম, আবেগ ও বিরহের নির্যাস নিয়ে নানান পদ্য বা কবিতা লিখে বা লিখতে উদ্বুদ্ধ হয়। পদ্যরচনার এই প্ররোচনা খুবই স্বাভাবিক। তবে আট-দশটা সাধারণ প্রেমিকহৃদয় আর কবিহৃদয়ের মধ্যে পার্থক্য এইÑ সাধারণ প্রেমিকের প্রেমার্ঘ্য হয় কাঁচা ও তরল আবেগে আবেগপুষ্ট। (আমি বলছি না, এখানে আন্তরিকতার অভাব বা ত্যাগের কোনো বালাই নেই। তবে এখানে শিল্পসুষমার কোনো বৈচিত্র্য বা বিন্যাস এতটা প্রকট হয় না।) অপরদিকে প্রেমিকহৃদয়ে শুদ্ধ কবিত্ব থাকলে তা হোক ঝর্ণার টলটলে জলের মতো আবেগোন্মত্ত প্রেম কিংবা হোক তা নিরেট পাথরের মতো ভারী ও বিশাল বিরহÑ এর সব অনুভূতিই কাব্যকলায় ও উপমা-অলংকারে হয়ে ওঠে অনবদ্য, অনিন্দ্য, সুন্দর ও হৃদয়ছোঁয়া। এমন হৃদয়গ্রাহী ও মনোলোভা কিছু চৌপদী (কবি যাদের নাম রেখেছে চৌকাঠ) দিয়ে সাজানো বইয়েরই নাম ‘যুগল প্রেমের স্রোতে।’

বর্তমানে শিল্পসাহিত্য অঙ্গনে এক অস্বাভাবিক প্রবণতা লক্ষণীয়। ঘরে ঘরে কবিতার চাষাবাদ চলছে। কিন্তু পঙ্ক্তির পর পঙ্ক্তি লিখলেই যে তা কবিতা বা সাহিত্য হয়ে ওঠে না, সেই ধ্রুব সত্যটিও তিনি ব্যক্ত করেছেন কবি তার ২২ নম্বর পদ্যে। এর পরপরই কবি আত্মসমালোচনাপূর্বক নিজেও প্রকাশ করেছেন তার ‘স্ট্যাটাসহীনতা’র কথা, যদিও কবির কাব্যকলা বেশ মনন ও মানের। পদ্যগুলোর শরীরে দিকে তাকালে একজন সজাগ পাঠক দেখতে পাবেনÑ কবিতাগুলোর শরীর ও আঙ্গিক এবং তাদের বেশভূষার বুনন ও নির্মাণে তন্ময় আলমগীর ও জেবুন নেসা মায়া প্রকৃতির দ্বারস্থ হয়েছেন বারবার। কবিতার পঙক্তিতে পঙক্তিতে মুক্তোর মতো ছড়িয়ে আছে আকাশ, বৃষ্টি, কুল, ফুল, মাটি, জল, বৃক্ষ, ফলের মতো নিবিড় নৈসর্গিক উপকরণ।

একজন কবি বা লেখক কখনোই তার সমসাময়িকতা তথা সকল সাম্প্রদায়িকতা ও গোঁড়ামিজনিত অপ্রতিসাম্যকে এড়িয়ে যেতে পারেন না। তাই বারবার তাদের কলমের আঁচড়ে ফুটে ওঠে অসাম্প্রদায়িকতার রেখাচিত্র, তেড়ে ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে সকল অন্ধকার ও কালোকে নস্যাৎ করার তীব্র আহ্বান ও সেøাগান। তাই কবি যখন কাব্যভাষণে ধর্মীয় গোঁড়ামি, উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের কলম ধরে, তখন তা শান্তির ফুল

হয়ে ফোটে।

যারা সদ্য প্রেমে পড়েছেন বা প্রেমে বিফল হয়ে আঙুলের ফাঁকে ধুমশলাকা রেখে পোড়াচ্ছেন হৃদপর্দার প্রতারিত জমিন, তাদের হয়েও কবি লিখেছেন দুহাত ভরে।

 

"