স্বপপূরণের গল্প

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

শামীম ইকবাল

মানুষ কত স্বপ্ন দেখে। সবার স্বপ্ন তো পূরণ হয় না কিন্তু যখন পূরণ হয়, নিজের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়। তেমনি ‘একজন কুদ্দুস ও কবি নজরুল’ স্বপ পূরণের গল্প। ‘একজন কুদ্দুস ও কবি নজরুল’ স্বপ্ন কিংবা ভালোবাসার জালে আটকে পড়ার গল্প। শাম্মী তুলতুল প্রতিটি চরিত্র এত দরদ দিয়ে এঁকেছেন যে, খুব সহজেই স্পর্শ করে।

কাহিনি সংক্ষেপ : রাউজানের কুদ্দুস মেধা ও প্রতীভার কারণে গ্রামের মানুষের পঞ্চমুখ। ছোটবেলা থেকে কোনো কিছু বা কারো সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিল বেশ। সে আগ্রহ থেকে এক দিন বাবার কাছে কবি নজরুলের নানা প্রতীভার কথা শুনে কবির প্রতি কুদ্দুসের হৃদয়ে তৈরি হয় ভালোলাগা ও ভালবাসা। কুদ্দুস এতই নজরুল ভক্ত হয়েছে যে, ক্লাসের মাঝে তার বই পড়া ও অবসরে চিন্তায় মগ্ন থাকা এবং ঘুমের ঘোরে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করল। কুদ্দুস একসময় প্রিয় মানুষটিকে কাছে পাওয়ার জন্য বিভোর হয়ে ওঠে। সাধ জাগে তাকে কাছ থেকে দেখার। ১৯৩২ সালের ১৯ মে রাউজানের মোহাম্মদপুর গ্রামবাসীর জন্য ছিল ঐতিহাসিক দিন। ঘুমন্ত মুসলিম সমাজকে জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল তরুণ কনফারেন্স, শিক্ষা ও সাহিত্য সম্মেলন। এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কবির প্রতি কুদ্দুসের অগাধ ভালোবাসাই তার ওপর নজরুলের দেখভালের দায়িত্ব পড়ে। শিশু কুদ্দুসের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে কবি তার সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন।

দুই বন্ধুর কাটানো ৭২ ঘণ্টার স্মৃতি এবং নজরুলের অজানা গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে এই কিশোর উপন্যাস। বইটি পাঠক হৃদয়কে নিয়ে যাবে এক সত্যিকারের রূপকথার গহিনে।

প্রতিক্রিয়া : চারদিকে যখন লেখকের জয়জয়কার তখন তার নতুন পাঠক হিসেবে নাম লেখালাম। শব্দচয়ন লেখনশৈলী অসাধারণ। শব্দজ্ঞান সমৃদ্ধ। ভালোলাগার আরেকটি দিক হলো, বইটির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। সেটি হলো, বইয়ের কয়েক পৃষ্ঠা পরপর শিল্পী মুনিরা হোসেন একটি করে ছবি এঁকেছেন যা অসাধারণ। সেসব ছবিতে আগের পৃষ্ঠার বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

ভালোলাগা অংশ : এক. মায়েরা কি ছেলের মনের সব কথা জানতে পারে? মা কুদ্দুসের গাল টেনে দিয়ে বলেন, হ্যাঁ বাবা-মায়েরা সব জানতে পারেন। সন্তানের ভালো-খারাপ, আনন্দ-দুঃখ তার চেহারা দেখলেই বুঝতে পারেন। তিন. জানো বাবা, তোমার লক্ষ্য যদি ঠিক থাকে তুমি পৌঁছাবেই তোমার লক্ষ্যে। কিন্তু দ্রুত নয়, ধীরে ধীরে। তার জন্যে অধিক পরিশ্রম করতে হবে। তিন. বাবু, নিজের কাজ নিজে করার মধ্যেই এক সুখানুভূতি কাজ করে। নিজেকে বড় করে রাখা এ কোনো মানুষে পড়ে? ছোট হওয়াতেই যত তৃপ্তি।

বইটি এত দেরিতে কেন পড়লাম এই আক্ষেপ আমার নেই। আক্ষেপ হলো, কেন এত দ্রুত পড়ে ফেললাম? ভালো লাগা তো শেষ করে ফেলার জিনিস নয়, জমিয়ে রাখার জিনিস। পড়ার কারণেই শেষ হয়ে গেল। তবে অবশ্যই আবার কোনো একদিন বসবো কুদ্দুস ও কবি নজরুলকে নিয়ে।

 

"