ভালোবাসার কমল হয়ে ফুটুক বেদনার নীল

প্রকাশ | ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

এস এম মুকুল

কষ্টের রূপক প্রতীক নীল রংকে ভালোবাসার শিশিরস্নাত পরশে কোমল ফোটানোর প্রত্যাশায় প্রকাশিত হয়েছে কবি ও শিক্ষিকা তাহমিনা ছাত্তারের প্রথম কাব্যগ্রন্থ? ‘ভালবাসার নীলকমল’। ভালোবাসার সূর্যশক্তি দিয়ে বেদনার নীলকে কোমলে ফোটাবার প্রত্যয়ে এ যেন এক নতুন শপথের কাব্যমালা। মলাট মোড়কে আবৃত্ত কবিতামালঞ্চে কবি ভালোবাসা দিয়ে বেদনার নীলকে পরাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘ভালবাসার নীলকমল আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। আমাদের কাব্যচিন্তা, চর্চায় আমাদের দেশপ্রেম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, গ্রাম-শহর-নদী-মানুষ আর প্রিয় প্রকৃতি, বোধ-বেদনা, আশা-আকাক্সক্ষা, স্বপ্ন-সম্ভাবনা সবকিছুতে আছে ভালোবাসার শক্তি, প্রেরণার শক্তি, পরিবর্তনের শক্তি। আমরা ভাষা আন্দোলন করেছি বোধের শক্তি দিয়ে। মায়ের মুখের ভাষার মর্যাদা অক্ষুণœ রেখেছি, জয় করেছি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার সম্মান। এর পেছনে আছে আমাদের মৌলিকত্ব আর প্রেরণার শক্তিই প্রধান। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিবর্তনের শক্তি দিয়ে। আমাদের যত অর্জন সবকিছুর পেছনে আছে কোনো না কোনো প্রেরণা। আছে বোধের তাড়না। আর সবকিছুর পেছনে আছে দেশপ্রেম। দেশের প্রতি ভালোবাসার শক্তি। এই অকৃত্রিম শক্তির জোরেই বারে বারে বাঙালিরা এক হয়েছে। চেতনায়, বোধে, জাগরণে জয় করেছি অহঙ্কারের বাংলাদেশ। আর অহঙ্কারের বাংলাদেশের এক কোণে থেকে আমার মতো একজন অতি সাধারণে চিন্তা-চর্চার ফসলটি হচ্ছেÑ ভালবাসার নীলকমল।’ ঠিক এমনিভাবে মোড়ক উন্মোচনে নিজের কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে বলেছিলেন

তাহমিনা ছাত্তার।

তিনি হৃদয়ের অন্তর্নিহিত উপলব্ধি থেকেই সাজিয়েছেন মলাটবন্দি কিছু কাব্যকথার পুষ্পমঞ্জুরি। তার কবিতায় আছে সারল্য, শব্দ-বাক্যের পরিমিতিবোধ। যদিও তিনি কবিতা লিখেছেন তবু পাঠকের কাছে মনে হবে এ যেন পত্রপাঠের শব্দমালা। কবিতায় শব্দ বুননে তিনি যেন ঠিক শিক্ষকের ভূমিকাটিই রেখেছেন। তার কবিতায় আছেÑ প্রেম, বিরহ, বোধ, দেশ ও আত্মোপলব্ধির নানামাত্রিক বিশ্লেষণ। জটিল শব্দ প্রয়োগকে পাশ কাটিয়ে তিনি কবিতার ভাব প্রকাশে বেছে নিয়েছেন সরলমাত্রা। তাই

তার কবিতাগুলোর রচনাশৈলীকে মনে

হবে কবিতাপাঠে পত্রালাপের

নতুনমাত্রার রূপায়ণ।

যিনি রাঁধতে জানেন, তিনি চুলও বাঁধতে জানেনÑ এটি নিছক কোনো প্রবচন নয়। নারী যে কেবলই অবয়বে আর সত্তায় নারী ননÑ তারই উজ্জ্বল উদাহরণ একজন তামমিনা ছাত্তার। কারণ তিনি শিক্ষকতা পেশার ব্যস্ততার বৃত্তকে ছিন্ন করেছেন বহুমাত্রিক সামাজিক কাজের মাধ্যমে। তিনি পেশায় এবং নেশায় একজন শিক্ষিকা। নেশা শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও তাহমিনা ছাত্তারের বেলায় যেন এটিই সঠিক। কেননা শিক্ষকতা তিনি কেবলই একটি পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি, বরং তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশুদ্ধ জ্ঞানচর্চার বীজ বুনে দেওয়ার কাজটিই করে যাচ্ছেন সরবে-নীরবে। একই সঙ্গে যিনি শিক্ষার আলো ছড়ান, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় নিবেদিত ভূমিকা রাখেন।

 

"