মেলায় ওয়াহিদ জালালের তিন বই

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ama ami

আশির দশক থেকে তার লেখালেখির যাত্রা এবং আজো অব্যাহত পথচলা। স্কুলজীবন থেকে কবিত্ব ভর করেছিল উদাস মনের বারান্দায়। আর তাকে কবি করে তোলার মতো চারপাশের প্রকৃতিও ছিল বড় বেশি মায়াময়।

জন্ম এবং বেড়ে উঠা সিলেটের নৈসর্গিক পরিম-লে। যখন ক্লাস টেনে পড়েন, তখনই গান লিখেন সিনেমার জন্য। গীতিকারের তকমাটাও আজ পাকাপোক্তভাবে সেঁটে গেছে নামের সঙ্গে। তিনি বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার। স্কুলপাট চুকিয়েই বাবার সঙ্গে পাড়ি জমান সুদূর ইংল্যান্ডে। বাংলাদেশ নিজের জন্মভূমি ছেড়েছেন জীবনের প্রয়োজনে কিন্তু কবিতা-গান ছাড়া হয়নি। করেছেন সাংবাদিকতা। দীর্ঘদিন ধরে ইংল্যান্ডের একটি রেডিওতে কাজ করছেন আর জে হিসেবে।

প্রবাসী কবি ও গীতিকার ওয়াহিদ জালালের কথা বলছিলাম এতক্ষণ।

কবিতা ও গান মিলিয়ে এ পর্যন্ত সাতাশটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তার। এবারের বইমেলাতেও স্থান পাচ্ছে তিনটি বই। দুটি কবিতার, একটি গানের।

মায়া (কবিতার বই)

‘মায়া’ তার প্রকাশিত পঁচিশতম গ্রন্থ। একশত পচাত্তরটি কবিতাসম্বলিত মায়া কাব্যগ্রন্থের সবগুলো কবিতাই ভীষণ মায়াময়। ওয়াহিদ জালালের কবিতাপ্রেমীরা একবাক্যে একটি কথাই স্বীকার করে নেন, তার কবিতার প্রধান উপজীব্য হচ্ছে প্রেম এবং মায়া। সহজ ভাষ্যে, শৈল্পিক শব্দ চয়নে অতি দ্রুত তিনি মানুষের মনের গভীরের ভাবটি প্রকাশ করেন কবিতার নান্দনিক রুপায়নে। মায়া সিরিজের একটি কবিতা খুব করে মনের ভেতরে যেয়ে লাগলো, কবি লিখেছেনÑ ‘খুব ভোরে সূর্যকে মাথায় তুলে/ত্রস্ত পায়ে তোমার স্মৃতির ভ্রমণে বের হলাম।/সমুদ্র দিলো তার মহৎ বুক খুলে/আমি নিঃস্বম্বল ঢেউয়ে ডুব দিলাম।/এসো একবার সংসারের অবসরের ফাঁকে,/মনের প্রথম তলায় বিশ্বাসের একটি চেয়ার পাতা আছে,/তাকিয়ে আছে তোমার পথের দিকে।/কত কামনা তোমাকে বুকে বসাবার/বাতাসের আরেক নাম ভালোবাসা,/সুদূরের বন্দরে নিষ্ঠাবান একটি আঁধার/জোছনাকে জড়াবে বুকে ধরেছে আশা,/যদিও তার চোখের জলে মলিন হয় রোজ/অবচেতনে রাখা রাশি রাশি পূর্ণিমা/তবু বুকে কতদিন মায়ার ফসল ফলেনি/দৃষ্টিজুড়ে বিরহের শামিয়ানা কেউ এসে খুলেনি।’

কবিতা পড়তে পড়তে একটি মায়াময় দৃশ্যকল্প ফুটে উঠে চোখের সামনে। সেখানে মাথার উপর সূর্য, স্মৃতি কাতরতা, উদাস পায়ে হেঁটে চলা, কারো পথের দিকে চেয়ে থাকা চিরকালের বিরহী প্রেমিক এক। কবিতাকে দুর্বোধ্য না করে সহজ এবং বোধগম্যতায় প্রকাশ করতে পারাও কবির কৃতিত্ব, যা কবি ওয়াহিদ জালালের লেখা পড়লে বোঝা যাবে।

আত্মকাব্যসমগ্র

বিগত বছরগুলোতে আত্মকাব্য-১ এবং আত্মকাব্য-২ প্রকাশিত হবার পর এবার প্রকাশিত হলো ‘আত্মকাব্যসমগ্র’। এক হাজারটি আত্মকাব্য রয়েছে বইটিতে। ছোট ছোট কবিতার আকারে কবি লিখে যাচ্ছেন এই আত্মকাব্য বা তার নিজের কথন। শব্দের অল্প পরিসরে বিস্তর ভাব প্রকাশের এ যেন নিজস্ব আয়না। যেমনÑ ‘তুমি আমি একদিন যে পাথরে বসে গল্প করেছিলাম/সেই পাথরটি এখন একটি তাজমহল।’

‘ঘর পুড়েছে আগুনে ক্ষতি নেই,/অমনই হয় নিঃস্বম্বল সকল পিপাসায়/তবু কালের ইতিহাস আমারে ভাবায়,/পাগলে যে সিগারেট জ্বালায়/সে আগুন পায় কোথায়?’

এই আত্মকাব্যের ভেতর এত গভীর ভাব এবং ত্বত্ত্ব লুকিয়ে আছে যা মানুষকে অনেক কিছু জানতে এবং শিখতে সাহায্য করবে। এই আত্মকাব্যই হয়তো কবিকে বাঁচিয়ে রাখবে চিরকাল মানুষের মাঝে, আমাদের নতুন প্রজন্মের মাঝে।

তুমি আমার (গানের বই)

২১২টি গান নিয়ে প্রকাশিত হলো তার চার নম্বর গানের বই ‘তুমি আমার’। আগেও বলেছি, ছোটবেলাতেই তার নামের সঙ্গে গীতিকার শব্দটি যুক্ত হয়েছে। গানেই যেন নিজেকে উৎসর্গ করেন পুরোপুরি। বেশিরভাগ গানই আধ্যাত্মিকতায় ভরপুর। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অনেক শিল্পীই গেয়েছেন তার গাওয়া গান। যেমনÑ ‘দূরে আছো ভালো কথা/খবর নিলে কি দোষের/সোনা বন্ধুরে কর্মের লিখন কাজ শিখিনি/ক্ষমা নাই কি দাসের।’

‘আমি তোমার আশা করি আর/কইরো না দেরি/সুখ ভাবিয়া জনমের দুখ/মাথায় লইয়া ঘুরি।’

সিলেটের মানুষ বলেই কিনা জানি না, গান তার আত্মার সঙ্গে মিশে আছে। তাকে হাসন রাজা, রাধা রমণ দত্ত, শাহ আবদুল করিমের উত্তরসূরী বললেও ভুল হবে না। তার গানের কথায় লেগে আছে সেই প্রেম, বিরহ আর আধ্যাত্মিকতা।

তুমি আমার বইটি একজন গীতিকারের জন্য অমূল্য সংগ্রহ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

* সেলিনা জাহান

 

"