লেখক-পাঠকের ‘চিহ্ন’

প্রকাশ | ৩১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

* শাহীন আলম

ছোটকাগজ ‘চিহ্ন’। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেড় যুগ ধরে প্রকাশিত হয়ে আসছে। ‘চিত্তের প্রসারতা মস্তিষ্কের মুক্তি’ সেøাগানকে ধারণ করে কয়েকজন তরুণ ২০০০ সালে বাংলা সাহিত্য চর্চাবিষয়ক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। নাম দেন চিহ্ন। কলমের আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সাহিত্য-সংস্কৃতির জগতকে পাঠকের কাছে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন তারা।

ষান্মাসিক চিহ্ন প্রতিবছর দুইবার বের হয়। এই কাগজে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, অনুবাদ, বই আলোচনা, বিজ্ঞানের সহজপাঠ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যসহ বিভিন্ন লেখা থাকে। চলতি বছর আগস্টে চিহ্ন’র ৩৫তম সংখ্যা প্রকাশ পেয়েছে। সংগঠনটির প্রত্যাশা, এই কাগজ চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাভাষার সৃজনশীল ও মননশীল লেখক তৈরি হবে।

সংগঠনের সদস্যরা জানান, বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা অনেকটাই সাহিত্যবিমুখ। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে তারা ইন্টারনেটে প্রচুর সময় ব্যয় করছে। ফলে তরুণরা ধীরে ধীরে তাদের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে হাজার হাজার বইয়ের সমাহার থাকলেও তাতে আগ্রহ নেই তরুণদের। এভাবে চললে বাংলাসাহিত্যে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয়।

প্রতি রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলাভবনের ১৩০ নম্বর কক্ষে আড্ডার আয়োজন করে ‘চিহ্ন’। একসঙ্গে হয় নবীন-তরুণ কবি, প্রাবন্ধিক ও গল্পকার। অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। আড্ডায় তারা সাহিত্য বিষয়ে গতানুগতিক ধারার পরিবর্তে নতুন করে চিন্তা করেন। আড্ডা কখনো বিষয়ভিত্তিক আবার কখনো বিষয় ছাড়াই হয়। অংশগ্রহণকারীরা তাদের মত জানান। একে-অপরের মতামতের পক্ষে-বিপক্ষে শুরু হয় বিতর্ক। পরে সে বিতর্ক চিহ্ন সম্পাদকের আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এখানেই থেমে নেই চিহ্ন। ২০১১ সাল থেকে এ সংগঠন আয়োজন করে আসছে চিহ্নমেলা। তিনবছর পরপর শহীদুল্লাহ কলাভবন চত্বরে এই মেলা হয়। মেলায় দেশের সাহিত্যবিষয়ক সংগঠনের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংগঠন ছোট কাগজের স্টল দেন। দুই বাংলার অনেক লেখক-সম্পাদক এতে অংশ নেন। এ ছাড়াও ছোটকাগজ ও সাহিত্যবিষয়ক সেমিনার, দুই বাংলার কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দুই বাংলার অংশগ্রহণে তা মিলনমেলায় রূপ নেয় এই অনুষ্ঠান। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এ মেলা হয়। আগামী বছর ‘চিহ্নমেলা চিরায়ত বাংলা ২০১৯’ অনুষ্ঠিত হবে।

চিহ্ন প্রধান শহীদ ইকবাল বলেন, চিহ্ন তরুণদের কাগজ। মনন ও সৃষ্টিশীলতার প্রসারে চিহ্ন’র যাবতীয় কর্মকা- পরিচালিত হয়। গত ২০ বছর সে লেখক-পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের কাছাকাছি পৌঁছানোর কাজ করে চলছে। এর স্পন্দন সাম্প্রতিক তরুণদের কণ্ঠস্বরে প্রতিধ্বনিত। আশা করছি, এটি ভবিষ্যতেও তার নিজস্ব পরিকাঠামোয় চালিয়ে যেতে সম্ভব হবে।

 

"