র‌্যাবের নির্যাতনে নিহতের ঘটনায় মামলা

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০

নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মান্দায় মোজাহারুল ইসলাম ওরফে জিএস (৩০) নামের এক যুবককে আটকের পর হত্যার অভিযোগে র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী শামিমা আক্তার। মামলায় র‌্যাব-৫ এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সাঈদ আবদুুল্লাহ আল মুরাদসহ অজ্ঞাত আরো ২০-২৫ জন র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত মামলা গ্রহণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত সোমবার মুখ্য বিচারক হাকিম নওগাঁ-২ আদালতে এ মামলা হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ৯ জন ব্যক্তির সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের যোগসাজশে র‌্যাব সদস্যরা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। স্থানীয় এই নয় ব্যক্তি হলেন মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, আবদুুল মজিদ, আবদুুস সাত্তার, সেলিম উদ্দিন ও রাজ্জাক হোসেন, ভরট্টো কাঠেরডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান মোল্লা এবং পার কুলিহার গ্রামের রফিকুল ইসলাম।

বাদীর আরজি সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কাঁশোপাড়া গ্রামের শহিদুলের সঙ্গে মাজহারুল উপজেলার সিংগী বাজারে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিংগী বাজারের পচা সরদার মোড় থেকে ৭-৮টি মোটরসাইকেলে করে আসা সাদা পোশাকধারী ২০-২৫ জন ব্যক্তি র‌্যাব পরিচয় দিয়ে মাজহারুলকে আটক করে। সেখানে তারা মাজহারুলকে মারধর করে। পরে মাজহারুলকে তার বাড়িতে নিয়ে দোতলায় একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত তার ওপর নির্যাতন চলে। রাত আড়াইটার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাজহারুলকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান র‌্যাব সদস্যরা।

ওই দিন ভোরে র‌্যাব সদস্যরা মাজহারুলকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান। পরদিন সকালে খোঁজ নিয়ে মাজহারুলের মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মান্দা থানায় মামলা করতে চাইলে মান্দা থানা পুলিশ মামলা নেয়নি।

বাদীর আইনজীবী শহিদুল ইসলাম বেলাল বলেন, মুখ্য বিচারক হাকিম আবদুুল মালেক আবদেন শুনে বিষয়টি তদন্তের আদেশ দেন। তিনি আশা করছেন মালায় ন্যায়বিচার পাবেন।

র‌্যাব-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম জানান, র‌্যাব সদস্যরা জানতে পারেন মান্দার একটি জায়গায় অস্ত্র কেনাবেচা করা হবে। এর ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে মাজাহারুল ইসলাম জিএস নামক একজনকে আটক করা হয়। তার কাছে আটটি গুলি পাওয়া যায়। অস্ত্র কোথায় আছে জানতে চাইলে মাজাহারুল বলেন বাড়িতে আছে। তাকে বাড়িতে নিয়ে তল্লাশি করে অস্ত্র পাওয়া যায়নি। এরপর অন্য জায়গায় আছে বলে ৮-১০টি স্থানে র‌্যাব সদস্যদের ঘুরিয়ে সে জায়গাগুলোতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র পাওয়া যায়নি। অস্ত্র পাওয়া না গেলে গুলিসহ তাকে গ্রেফতার করে দাফতরিক কাজে রাজশাহী র‌্যাব কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়। পথে সে অসুস্থ হলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান। তাকে মারপিট করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

"