জমি নিয়ে বিরোধ

শ্যামনগরে মুন্ডারা নিরাপত্তাহীন

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

মাত্র তিন শতক জমি নিয়ে বিরোধ আদিবাসী মুন্ডা পরিবারের সঙ্গে জামাল গাজীর। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা সদরের বাধঘাটা গ্রামের মুন্ডা সম্প্রদায়ের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা একদিকে নিরাপত্তাহীনতায়, অন্যদিকে অন্যত্র চলে যাওয়ার কথা ভাবছে। তবে জামাল গাজী বলেছেন, মুন্ডাদের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তার ক্রয় করা জমির দখল বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা সদরের মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে বাধঘাটা গ্রাম। এখানে সরকারি খাসজমিতে ডিসিআর নিয়ে বসতি ৩৫ ঘর মানুষের। এর মধ্যে আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায় রয়েছে চারটি পরিবার। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ের সরকারি আইসিটি প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন রাশেদুল ইসলাম। দশ শতক জমি কিনেছেন তিনি। এরই মধ্যে মুন্ডা সম্প্রদায়ের চারুমুন্ডার জমির মধ্যে তার জমি ঢুকেছে তিন শতক। এজন্য ভেঙে যাওয়া গোয়ালঘরটি তিনি করতে দিচ্ছে না। গোয়ালঘরটি করতে না দেওয়ায় গরু নিয়ে রাখছেন বসতঘরে। মানুষ গরু একসঙ্গে বসতি সেখানে।

শ্যামনগর সদরের বাধঘাটা গ্রামের চারু মুন্ডা জানান, ইউএনও সাহেব জামাল গাজীর ছেলে রাশেদুল গাজীর পক্ষ নিয়ে দশ শতক জমি দখল করে দিচ্ছেন আমার জমির ওপরে। এর আগে যারা ইউএনও ছিলেন তারা কোনো সমস্যা করেননি। নতুন ইউএনও এসেই ঝামেলা শুরু করেছেন। বলে গেছেন ঘেরা ভেঙে জায়গা দিতে হবে রাস্তার জন্য।

চারুমুন্ডার ছেলে রামপ্রসাদ মুন্ডা বলেন, ‘আমরা আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়ের মানুষ। আমরা এখানে ২৪-২৫ বছর ধরে বসবাস করছি ডিসিআর কেটে। বসবাস করার পর থেকে এখানে খুব ভালো ছিলাম। ঘর ছিল, ঘরটা ঝড়ে পড়ে যাওয়ার পরে গোয়ালঘরটা আর বাঁধতে দিচ্ছে না। জামালের ছেলে রাশেদুল তিনি ইউএনও ও এসিল্যান্ড সাহেবকে এনে ঘরটা তুলতে বাধা দিয়েছে।’

জমি-জায়গা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। আমাদের এখান থেকে উচ্ছেদ করে দেবে এই আশঙ্কা জানিয়ে বিলকিস বানু বলেন, ‘আমরা এখানে ৩৫-৩৬ ঘর লোক বাস করি। আমাদের ওপর এত অত্যাচার হচ্ছে, আমরা এখানে টিকতে পারছি না।’

তবে জামাল গাজী বলেন, ‘আমরা গায়ের জোরে জমি দখল করছি না। সাত শতক জমি কিনে দখল করছি।’ তার ছেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসের একটি সরকারি প্রকল্পের আইসিটি প্রশিক্ষক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি রেকর্ড দেখে জমি কিনেছি। যাদের কাছ থেকে জমিটা কিনেছি, তারা জমিটা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না বারবার বলার পরও। মুন্ডা পরিবারের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমি বিষয়টি সমাধানের জন্য গিয়েছিলাম। কাউকে কোনোরূপ কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। যেহেতু এখন সম্পূর্ণরূপে মাপজরিপ করা হয়নি, সেজন্য সাময়িকভাবে স্থাপনা নির্মাণে নিষেধ করা হয়েছে। শ্যামনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমাদের কাছে যে ম্যাপটি রয়েছে সেটা পুরনো ম্যাপ, সে ম্যাপে মাপজরিপে দেখা গেছে মুন্ডারা যে জায়গাটি দখল করে আছে; সে জায়গাটির মধ্যে রেকর্ডীয় জমি তিন ফিট রয়েছে।’

"