‘মদ্যপ ওসির কর্মকান্ডের’ সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

মদ্যপ অবস্থায় চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে হোটেলের রুমবয় এবং কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাকে ওসি মাঈনুল ইসলাম ভূঁইয়ার মারধরের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে সেখানে উল্লেখ রয়েছে। এখন তার যতটুকু শাস্তি প্রাপ্য, ততটুকুর সুপারিশ করে আমি সদর দপ্তরে এটা পাঠাব। তখন একজন অতিরিক্ত আইজিপি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।’

এদিকে, এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছিল চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) নাজমুল হাসানকে প্রধান করে কমিটিতে সদস্য রাখা হয়েছে সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) এবং গোয়েন্দা পুলিশের একজন পরিদর্শককে।

তদন্ত কমিটির সদস্য সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) এবিএম ফয়জুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক মাঈনুলসহ ২৪ জনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য এবং ভিডিও ফুটেজ থেকে নেওয়া ১০টি ছবি তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই গভীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় নগরীর আগ্রাবাদ মোড়ের ‘হোটেল সেন্ট মার্টিন’-এর রুমবয় এবং ডবলমুরিং থানার এসআই সৈয়দ আলমকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে মাঈনুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। সদরঘাট থানার ওসির দায়িত্বে থাকাকালে ছাত্রলীগের সাবেক একজন নেতাকে পিটিয়ে আহত করার পর স্ত্রীসহ আটক করেন ওসি মাঈনুল। এ ঘটনার জেরে গত বছর তাকে ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

সূত্রমতে, সাদা পোশাকে হোটেল সেন্ট মার্টিনে গিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা মাঈনুল। চাহিদা অনুযায়ী ব্র্যান্ডেড মদ দিতে না পারায় রুমবয়কে মারধর করেন তিনি। হোটেলের একজন নিরাপত্তাকর্মীও তার প্রহারের শিকার হয়েছিলেন। রাত দেড়টায় ওই ঘটনা ঘটিয়ে ফিরে আসার পর মাঈনুল পুনরায় গাড়িতে করে ওই হোটেলে গিয়ে মোবাইল ডিউটিতে থাকা ডবলমুরিং থানার এসআই সৈয়দ আলমের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাকেও মারধর করেন। এ ব্যাপারে এসআই সৈয়দ আলম অভিযোগ করার পর কয়েকজন কর্মকর্তা হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযোগের সত্যতা পান। পুরো বিষয়টির প্রাথমিক তদন্ত করে গত ৪ জুলাই সিএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন ডবলমুরিং থানার ওসি একেএম মহিউদ্দীন সেলিম।

"