বজ্রপাতে মা-ছেলেসহ ১৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৭, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে মা-ছেলেসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন স্কুলছাত্রও রয়েছে। গতকাল সোমবার ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, মাগুরা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও কুষ্টিয়া জেলায় বৃষ্টিপাতের সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

ফরিদপুর : বজ্রপাতে মা-ছেলেসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে সালথায় মা-ছেলেসহ তিনজন, চরভদ্রাসনে দুজন ও বোয়ালমারীতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন-সালথা উপজেলার ভাবুকদিয়া গ্রামের গৃহবধূ হেলেনা বেগম, তার ছেলে হেলাল এবং একই এলাকার মো. মিলন, বোয়ালমারী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের আওয়াল ফকির ও ফরহাদ শেখ এবং কুষ্টিয়ার কাবুল।

সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফায়েকুজ্জামান জানান, সকালে বজ্রপাতে ভাবুকদিয়া গ্রামের গৃহবধূ হেলেনা বেগম ও তার শিশুপুত্র হেলাল মারা যায়। এ ছাড়া মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মিলনের মৃত্যু হয়। চরভদ্রাসনের ছমির ব্যাপারীর ডাঙ্গী এলাকায় জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কাবুলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত অপর দুই দিনমজুরকে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ই¯্রাফিল মোল্লা। তিনি বলেন, স্থানীয় মসজিদের ইমাম আওয়াল ফকির মাঠে গরু আনতে গিয়ে এবং মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ফরহাদ শেখের মৃত্যু হয়। কবিরপুরে খেয়াঘাট এলাকায় বজ্রপাতে ওমর আলী নামে এক দিনমজুরের মুত্যু হয়েছে। তার বাড়ি নাটোর। এ সময় আরেক দিনমজুর আহত হয়েছেন। এদিকে সোমবার সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। থেমে থেমে বর্ষণের সঙ্গে ঝড়োহাওয়া বইতে থাকে। বিদ্যুতের চমকানি ও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

মাগুরা : সদর উপজেলায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন-সদর উপজেলার নালিয়ারডাঙ্গি গ্রামের রিপু জোয়াদ্দারের ছেলে পলন্দি জোয়াদ্দার (৪০) ও মঘি গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে আসাদ শেখ (৪৮)। দুপুরে প্রচ- ঝড়বৃষ্টির মাঝে মাঠে কাজ করার সময় প্রায় একই সময়ে আসাদ ও পলন্দি বজ্রপাতে মারাত্মক আহত হন। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরিক্ষিত কুমার পাল তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

মানিকগঞ্জ : শিবালয়ে বজ্রপাতে রহুল শেখ নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। রহুল উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামের দিনমজুর আওলাদ হোসেনের ছেলে ও স্থানীয় নালী-বরুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। বৃষ্টির সময় রহুল পাশের বাড়ি থেকে জাম্বুরা কুড়িয়ে নিজ বাড়ি ফিরছিল। এ সময় তার ওপর আকস্মিক বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

ঝালকাঠি : সদর উপজেলার নবগ্রাম গ্রামে বজ্রপাতে জাকির হোসেন নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। জাকির সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের গের আলীর ছেলে। দুপুরে বাড়ির পাশে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পটুয়াখালী : দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে বজ্রাহত হয়ে মাওলানা আবদুল কাদের গাজী (৪৫) নামের এক মাদরাসাশিক্ষক মারা গেছেন। তিনি দুমকির পশ্চিম আঙ্গারিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। গতকাল দুপুরে কাদের গাজী নিজ বাড়িতে গোসল করার সময় বজ্রাহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দুমটি লুথ্যারান হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়া : দৌলতপুরে বজ্রপাতে বাদশা (১৮) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো তিনজন। গতকাল সকালে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। বাদশার ভাই রাজাসহ (১৬) আরো তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আর নিহত বাদশার লাশ উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। বাদশা ঠাকুরপাড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে।

"