নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কূটনীতিক শাহেদুল ইসলামের জামিন

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৭, ০০:০০

ইউএনএ, নিউইয়র্ক

গৃহকর্মী নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগে নিউইয়র্কে গ্রেফতার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৮টা ২০ মিনিটে তিনি সিটির ব্রঙ্কস বরোস্থ ভারমন সি কারেকশন সেন্টার থেকে মুক্ত হন। কনসাল জেনারেল শামীম আহসান তার মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামের মুক্তির সময় কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, কনস্যুলেটের প্রথম সচিব শামীম হোসেন এবং তৃতীয় সচিব আসিব আহমেদসহ শাহেদুল ইসলামের কয়েকজন আত্মীয়স্বজন ভারমন সি কারেকশন সেন্টারের গেটের সামনে উপস্থিত ছিলেন। খবর ইউএনএর।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্কে কনস্যুলেট জেনারেলের ঐকান্তিক চেষ্টা আর কমিউনিটি নেতাদের সহযোগিতায় প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর শাহেদুল ইসলাম মুক্ত হন। মুক্তির পর তিনি কনস্যুলেটের গাড়িতে চড়ে সরাসরি বাসায় ফিরে যান।

গত মঙ্গলবার বিকেলে ভারমন সি কারেকশন সেন্টারের গেটের সামনে এই প্রতিবেদকসহ একাধিক মিডিয়ার প্রতিনিধিকে কনসাল জেনারেল শামীম আহসান ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামের গ্রেফতার ও জামিনের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত বছরের মে মাসে শাহেদুল ইসলামের বাসা থেকে রুহুল আমীন (মামলার বাদী) নিরদ্দেশ হন। এ ব্যাপারে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিস থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করা হয়েছিল। এ সময় সেখানে অপেক্ষমাণ শাহেদুল ইসলামের আত্মীয় পরিচয়দানকারী নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইউএসএর সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আবদুুল লতিফ মিডিয়ার কাছে দাবি করে বলেন, শাহেদুল ইসলাম ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেরর ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণœœ হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে নয়, আমরাই ব্যক্তিগতভাবে জামিনের অর্থ জোগান দিয়েছি।

শাহেদুল ইসলামের চাচা পরিচয়দানকারী মোস্তফা কামাল মিলটন বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই রুহুল আমীন (শাহেদুল ইসলামের গৃহকর্মী, মামলার বাদী) শাহেদুল ইসলামের বাড়িতেই বড় হয়েছে। পরবর্তীতে রুহুল আমীনের অনুরোধে শাহেদুল নিউইয়র্কে তার বাসার কাজের লোক হিসেবে সরকারি উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে আসে। রুহুল আমীন শাহেদুল ইসলামের বাসায় কাজ করার বিনিময়ে অর্থ দিয়ে দেশে বাড়ি করেছেন। তিনি দাবি করেন ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা।

ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামকে গ্রেফতার ও জামিন প্রসঙ্গে বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এই প্রতিবেদকে বলেন, শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকায় তাকে জামিন নিতে ৫০ হাজার ডলারের বন্ড দিতে হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের দিনই নগদ অর্থ বন্ড হিসেবে দিতে পারলে তিনি সেই দিনই জামিনে মুক্তি পেতে পারতেন।

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলাম ১২ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গ্রেফতার করা হয়। নিউইয়র্কের পুলিশ সিটির কুইন্সে বসবাসকারী শাহেদুল ইসলামকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করার কয়েক ঘণ্টা পর কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে হাজির করে।

উল্লেখ্য, শাহেদুল ইসলাম ঠাকুরগাঁওয়ের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত খাদেমুল ইসলামের ছেলে। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তিনি ২০১১ সালে নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে যোগ দেন। এর আগে তিনি কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

ইতোপূর্বে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ ওঠে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই মনিরুল ইসলাম তড়িঘড়ি করে সস্ত্রীক নিউইয়র্ক ত্যাগ করে তার নতুন কর্মস্থলে (অন্য দেশ) চলে যান।

এদিকে শাহেদুল ইসলামকে গ্রেফতারের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এই প্রতিবাদ জানানো হয় বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জোয়েল রিফম্যান ও পলিটিক্যাল কাউন্সিলর আন্দ্রেয়া বি রড্রিগেজ মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মাহবুব উজ জামানের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেখা করেন। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডেপুটি কনসাল জেনারেলের অবিলম্বে মুক্তি চাওয়া হয়।

অভিযুক্ত ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামকে আগামী ২৮ জুন আবারও আদালতে হাজির হতে হবে বলে জানা গেছে।

"