জেকেজির আরিফ চৌধুরী ৪ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল চৌধুরী ও তার সহযোগী সাইদ চৌধুরীকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার গোয়েন্দা পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমান। এর আগে গত ২৪ জুন করোনা সার্টিফিকেট জালিয়াতি মামলায় আরিফুল চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর তিন দিনের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন শেষ হয় গতকাল। মানবিকতা-নীতি নৈতিকতা ভুলে করোনার মতো দুর্যোগকে স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ হিসেবে নিয়েছিল জেকেজি হেলথকেয়ার। এমন অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক চৌধুরীর পর গত রোববার গ্রেফতার হন তার স্ত্রী ডা. সাবরিনা চৌধুরী। যিনি জেকেজির চেয়ারম্যান। ১৬ হাজার করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে গত ২৩ জুন গ্রেফতার হন তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরী। এরপর থেকেই আলোচনায় ছিলেন ডা. সাবরিনা। সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে অর্থ নিচ্ছিল জেকেজি। পাশাপাশি পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া সনদ দিচ্ছিল। এ অভিযোগে সাবরিনাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সূত্রে জানা যায়, আরিফের চতুর্থ স্ত্রী সাবরিনা। তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী রাশিয়া ও লন্ডনে থাকেন। তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তালাক হয়েছে। চতুর্থ স্ত্রী ডা. সাবরিনার কারণেই করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজ পায় জেকেজি হেলথকেয়ার। প্রথমে তিতুমীর কলেজ মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার অন্য এলাকা এবং অনেক জেলা থেকেও নমুনা সংগ্রহ করছিলেন তারা। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হুমায়ুন কবির এ চক্রের হোতা। তানজিনা পাটোয়ারী তার স্ত্রী। তাদের নেতৃত্বে চক্রটি রাজধানীর বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে করোনার পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করত এবং ভুয়া রিপোর্ট দিত। চক্রটি জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিত। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকরা করোনার উপসর্গ থাকা রোগীদের বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ফলাফল জানিয়ে দেন। তবে নমুনা সংগ্রহের পর তা আর পরীক্ষা করা হয় না। তাদের নেই কোনো ল্যাব। কম্পিউটারে ফলাফল লিখে ই-মেইলে তা রোগীর কাছে পাঠিয়ে দেন। এভাবে ইতোমধ্যে ৩৭ জনের ভুয়া কোভিড-১৯ টেস্ট রিপোর্ট জানিয়ে দেন তারা। নমুনা সংগ্রহের সময় রোগীর বাহ্যিক উপসর্গ দেখে একটা ধারণা থেকে ফল তৈরি করেন। করোনার বাহ্যিক উপসর্গ দেখা দিলে, সেক্ষেত্রে তার পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ উল্লেখ করা হয়। কোনো উপসর্গ না দেখা দিলে তার রিপোর্টে নেগেটিভ উল্লেখ করা হয়।

 

"

সর্বাধিক পঠিত