ঢাকাসহ ৪ সিটিতে পশুর হাট না বসানোর সুপারিশ

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এ বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯-বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। ভাইরাসের বিস্তার রোধে ঈদের ছুটিতে এই চার এলাকা থেকে অন্যান্য স্থানে যাতায়াত বন্ধ রাখারও পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। বাংলাদেশে নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে এই চার জেলা। গত শুক্রবার পরামর্শক কমিটির ১৪তম অনলাইন সভায় যেসব সুপারিশ করা হয় সেগুলো পরে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সহিদুল্লা ও সদস্য সচিব মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জাতীয় পরামর্শক কমিটি কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। কোভিড-১৯ সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ অবস্থায় ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবাধ জীবনযাত্রায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় কমিটি।

কমিটি তাদের সুপারিশে বলেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে যেন পশুর হাট স্থাপন না করা হয়। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পশু কেনাবেচার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য জায়গায় সংক্রমণ প্রতিরোধ নীতিমালা পালন সাপেক্ষে কোরবানির পশুর হাট বসানো যেতে পারে।

কোরবানি পশুর হাট স্থাপন ও পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করারও সুপারিশ করেছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এ ছাড়া কমিটি হাট শহরের অভ্যন্তরে না বসানোর সুপারিশ করেছে। পশুর হাট খোলা ময়দানে করতে হবে, যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের পশুর হাটে যাওয়া থেকে বিরত থাকার সুপারিশ করেছে জাতীয় কমিটি। এ ছাড়া হাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার পৃথক রাস্তা রাখা, হাটে আসা সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা, পশু জবাই বাড়িতে না করে শহরের বাইরে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থানে করার সুপারিশ করেছে জাতীয় কমিটি। অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমে বাড়ির বাইরে কোরবানি দেওয়া সম্ভব হলে, তা করার উৎসাহ দিচ্ছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি।

এ বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় কোরবানির পশুর ২৪টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে উত্তর সিটি করপোরেশন পরে তেজগাঁও, আফতাবনগর ও ভাসানটেকে হাট বসানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। যদিও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, তাদের আওতাধীন আফতাবনগরের একটি অংশে হাট বসবে। মহামারির এ সময়ে কোরবানির হাট বসানো নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিভিন্ন পক্ষের। সরকারি হিসাবে, দেশে ১ লাখ ৮১ হাজার ১২৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ ভাইরাসের সংক্রমণে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২ হাজার ৩০৫ জন।

 

"