৫ জেলায় বন্যার পানি স্থিতিশীল থাকবে

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র গতকাল শনিবার জানিয়েছে, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর ও শরিয়তপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। ব্রক্ষ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীগুলোর পানি স্থিতিশীল রয়েছে যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এবং আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে।

পূর্বাভাস কেন্দ্র আরো জানিয়েছে, আপার মেঘনা অববাহিকায় নদীগুলোর পানি হ্রাস পাচ্ছে। যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি হ্রাস পেতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। দেশের পর্যবেক্ষণাধীন ১০১টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে ৬১ টির, হ্রাস পেয়েছে ৩৯টির, অপরিবর্তিত রয়েছে একটির ।

এ ছাড়া তিস্তা ও যমুনার পানি বইছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে, বকশীগঞ্জে বন্যায় ৩৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টÑ

লালমনিরহাট : তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী মানুষ বড় বন্যার আশঙ্কা করছে। গতকাল শনিবার ভোর থেকে ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ৩ ঘণ্টা পরে কিছুটা কমে সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত কয়েক সপ্তাহে তৃতীয় দফায় বাড়ছে তিস্তার পানি। এতে নদী তীরবর্তী মানুষের আশঙ্কা এবার বড় বন্যা হতে পারে।

জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। এদিকে ডালিয়া শাখা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, উজানে ভারতে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। তাই ডালিয়া পয়েন্টে শিগগিরই তিস্তার পানি প্রবাহ কমে যাবে। পলি ও বালু জমে তিস্তা ভরাট। তাই সামান্যতেই তিস্তার পানি উপচে লোকালয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

সিরাজগঞ্জ : গতকাল শনিবার সকালে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অপর দিকে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে বলে জানায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) : জামালপুরের বকশীগঞ্জে ধীরগতিতে বন্যার পানি কমছে। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে বন্যার্তদের মধ্যে। বন্যায় সাধুরপাড়া, মেরুরচর, বগারচর ও নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের ৩৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে শুক্রবার বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার কাগমারী পাড়া গ্রামের জিসান (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত ১০ দিনে বকশীগঞ্জ উপজেলার বাংগালপাড়া, আইরমারী, চর কামালের বার্ত্তী, দক্ষিণ কুশলনগর, পূর্ব কলকিহারা, উজান কলকিহারা গ্রামের অর্ধশত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি। শনিবার দুপুুরে উপজেলার ভরতখালি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে ভরতখালি, হলদিয়া ও সাঘাটা ইউনিয়নের ৫ শতাধিক বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্বোধন করেন তিনি।

 

"