আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার হচ্ছে ঝালকাঠিতে

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০

মো. শাহাদাত হোসেন মনু, ঝালকাঠি

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ঝালকাঠি জেলার ৪ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরই মধ্যে কাঁঠালিয়া উপজেলার প্রায় এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও ঝালকাঠি সদরের প্রায় দুই কিলোমিটার, রাজাপুরের এক কিলোমিটারেরও বেশি, নলছিটিতে দুই কিলোমিটারেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধে দ্রুত সংস্কার প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ প্রকল্পে এসব ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হবে বলে জানান ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) দীপক রঞ্জন দাস ।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ফয়সাল জানিয়েছেন, ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধ আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

এরপরই কাঁঠালিয়া উপজেলার নদী তীরবর্তী উত্তর আউরা বাজার সংলগ্ন ৩৫০ মিটার, উত্তর আউরা ব্রিজ ক্রসিং ১০ মিটার, জয়খালী ৩০০ মিটার, জয়খালী ব্রিজ ক্রসিং ১৫ মিটার, চিংড়াখালী ২০০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন লঞ্চঘাট এলাকার ৩৫০ মিটার বেড়িবাঁধসহ সদর উপজেলার সাচিলাপুরে ৬টি পয়েন্টে ৭৬৪ মিটার, গাবখান ১৮ পয়েন্টে ৬৭২ মিটার, ভাটারাকান্দার বিভিন্ন পয়েন্টে ৪৮৩ মিটারে বালুভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে জরুরি সংস্কার কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে বলে নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে নলছিটি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সুগন্ধা নদী তীরবর্তী ২৫০ মিটার, ষাটপাকিয়া ফেরিঘাট ভাঙনকবলিত এলাকা ৩৫০ মিটার, তেঁতুলবাড়িয়া ব্রিজ ক্রসিং ২৬০ মিটার, হদুয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন বিষখালী নদী তীরবর্তী ১৩০ মিটার, দক্ষিণ হদুয়া ১০৮৩ মিটার, রাজাপুর উপজেলার বিষখালী নদী তীরবর্তী নাপিতের হাট সংলগ্ন ১৫০ মিটার, চল্লিশ কাহনিয়া ২০০ মিটার, বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন ৫০০ মিটার, নিজামিয়া ১৮০ মিটার, বদনীকাঠি বাজার সংলগ্ন ১৫০ মিটার জিও ব্যাগ দিয়ে

বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলার ২১ কিলোমিটারজুড়ে ৪০০ ফুট প্রস্থতা নিয়ে বয়ে চলে সুগন্ধা নদী। এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটার ঝালকাঠি অংশে বাকিটা বরিশাল জেলায়। সুগন্ধা নদীটি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন এলাকায় প্রবহমান কীর্তনখোলা নদী হতে উৎপত্তি লাভ করেছে। এই নদীর জলধারা ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে বিশখালী নদীতে পতিত হয়েছে।

ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী ও গাবখান নদীর মোহনা থেকে বিষখালী নদীর উৎপত্তি হয়ে দক্ষিণে ১০৫ কিলোমিটারে প্রবাহমান রয়েছে। বিষখালী নদীটি ঝালকাঠি জেলার ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন এলাকায় প্রবহমান সুগন্ধা নদী হতে উৎপত্তি লাভ করেছে। এ নদীর জলধারা রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও বেতাগী উপজেলা অতিক্রম করে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার পাথরঘাটা ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এর মধ্যে ঝালকাঠি জেলায় ২৯ কিলোমিটার।

গাবখান নদী মোহনা থেকে শুরু করে উত্তর দিক হয়ে পশ্চিমে দিকে বয়ে চলে পিরোজপুরের কচা নদীতে পতিত হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ১৮ কিলোমিটার। কৃত্রিম এ নদীটি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রবন্দর মোংলার সঙ্গে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সমুদ্র ও নৌ বন্দরের যোগাযোগের সহজতম রুট।

সুপার সাইক্লোন সিডর, আইলা, বুলবুলের পরে সর্বশেষ আঘাত হানে আম্পান। আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন নদী তীরের বাসিন্দারা।

 

"