সাতক্ষীরায় বিলুপ্ত প্রজাতির রাজ কাঁকড়ার সন্ধান

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২০, ০০:০০

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় বিরল প্রজাতির একটি কাঁকড়া উদ্ধার হয়েছে। জেলার তালা উপজেলার কোলাস বিলে গত মঙ্গলবার দুপুরে ঘেরের মাটি কাটার সময় কাঁকড়াটি উদ্ধার করেন আফসার মোড়ল নামের একজন শ্রমিক। স্থানীয়রা কাঁকড়াটির নাম বলতে পারছেন না।

তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটি গ্রামের আফসার মোড়ল জানান, বিলে আমরা পানির মধ্যে ঘেরের মাটি কাটছিলাম। কাদামাটি কাটার সময় কাঁকড়াটি আমার হাতে উঠে আসে। এমন কাঁকড়া আমি আগে কখনো দেখিনি। পরে কাঁকড়াটিকে ছেড়ে না দিয়ে বাড়িতে এনে রেখে দিয়েছি। আফসার মোড়লের ছেলে লিটন মোড়ল জানান, কাঁকড়াটির নাম এলাকায় কেউ বলতে পারছে না। মনে হচ্ছে বিরল প্রজাতির কোনো কাঁকড়া হবে। সেটি আমাদের বাড়িতে পানির মধ্যে রেখে দিয়েছি।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, বিষয়টি আমাদের কেউ অবহিত করেনি। আমরা খোঁজ নিচ্ছি। বিলুপ্ত প্রজাতির কিছু হলে নদীতে অবমুক্ত করা হবে।

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ছবির সঙ্গে সাদৃশ্য দেখে এটি রাজ কাঁকড়া বলে ধারণা করা যায়। জানা যায়, রাজ কাঁকড়া এটি (অশ্বখুরাকৃতির কাঁকড়া বা সাগর কাঁকড়া) প্রকৃত পক্ষে কাঁকড়া নয় তবে কাঁকড়ার সহিত সাদৃশ্যযুক্ত সামুদ্রিক অ্যারাকনিড। এরা Xiphosura (wM«K, xiphos, তলোয়ার এবং uros, লেজ) বর্গের অন্তর্ভুক্ত। পৃথিবীব্যাপী ৩টি গণের অধীনে এদের ৪টি জীবিত প্রজাতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গালফ উপকূল ও আটলান্টিক মহাসাগরে বসবাসরত Limulus polyhemus জাপান, চীন এবং দক্ষিণ সাবাহ (মালয়েশিয়ায়া) অঞ্চলের Tachypleus tridentatus এবং বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় বাসকারী Tachypleus gigas ও সবচেয়ে ছোট প্রজাতি Carcinoscorpius rotundicauda। গ্রাগৈতিহাসিক এই প্রাণীকে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ বলা হয়। যা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন বা ৫৫ কোটি বছর আগে ট্রাইলোবাইট থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। বাংলাদেশে rotundicauda মোহনা এবং মহাদেশীয় মহীসোপান অঞ্চলে দেখা যায়। প্রায়ই মাছ ধরার জালে ধরা পড়ে। কক্সবাজার উপকূল, সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া, মহেশখালী দ্বীপ এবং সুন্দরবনের নদী ও চরে সচরাচর এটিকে দেখা যায়।

বাংলাদেশে যদিও রাজ কাঁকড়া ঝুঁকিপূর্ণ নয় তবে বিশ্বব্যাপী অতি আহরণ ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে আবাসস্থল ধ্বংসের ফলে এর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় এদের ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

 

"