ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি হলেই ব্যবস্থা

দুদক চেয়ারম্যান

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সময় যত কঠিনই হোক না কেন ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণসহ খাদ্যসামগ্রী আত্মসাতের ঘটনাগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি জানার পর গতকাল মঙ্গলবার এ হুশিয়ারি দেন তিনি।

দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্র্য বলেন, ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি, খাদ্য গুদামের খাদ্যসামগ্রী অবৈধভাবে বিক্রি, কতিপয় ডিলারের খাদ্যসামগ্রী আত্মসাৎসহ এ জাতীয় অভিযোগে কমিশন থেকে নেওয়া আইনি কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সরকারি ছুটি চলাকালে ত্রাণ বিতরণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের ও আসামি গ্রেফতার করায় কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

দুর্নীতির অভিযোগ জানানোর সব চ্যানেল খোলা রয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গণমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম, দুদকের গোয়েন্দা তথ্যসহ সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিয়মিত বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ কেউ পাবে না। প্রতিটি অভিযোগ বিচার-বিশ্লেষণ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতি করে কেউ যেন শান্তিতে থাকতে না পারে, সে ব্যবস্থা কমিশন করবে। অতি লোভী ঘৃণ্য এই অপরাধীদের আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করতেই হবে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস পরিচালনার বিষয়ে কমিশন ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছে। টিমের কার্যক্রম বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই থার্মাল স্ক্যানার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহসহ বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। তারপরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে কমিশনের দুজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

দুদক চেয়ারম্যান তাদের মৃত্যুতে পুনরায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। আর যারা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্বসহ সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অফিস পরিচালনা করতে হবে। ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ই-ফাইলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রযুক্তির মাধ্যমে সব ধরনের যোগাযোগ সম্পন্ন করা হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর লকডাউন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ত্রাণসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনায় ১৯টি মামলা করা হয় এবং এসব মামলায় অধিকাংশ আসামি গ্রেফতার হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

 

"