ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী অবস্থা

কয়রার গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা খোলা আকাশের নিচে

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২০, ০০:০০

মজিবার রহমান, কয়রা (খুলনা)

খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের হায়াতখালী নদীর চরে অবস্থিত খড়িয়া মাঠবাড়ী গুচ্ছগ্রামের অধিকাংশ ঘর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে। জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় গুচ্ছগ্রাম ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে জোয়ার-ভাটার চলমান থাকায় গুচ্ছগ্রাম ছেড়ে অন্যত্রে চলে গিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছে। বসবাসের উপযোগী হিসাবে গড়ে তোলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারি অধিবাসীরা। শুধু মঠবাড়ী নয় আম্পানে তান্ডবে কয়রার গোবরা ও শেওড়া আশ্রয়ণকেন্দ্র গুচ্ছগ্রাম ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কয়রা উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে কয়রা উপজেলার মহারাজপুর, কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশি ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ২১টি পয়েন্টের পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে এখনো প্রায় ৪১ হাজার পরিবার লোনা পানির নিচে। আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ উঁচু জায়গায় বসবাস করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। আম্পানের তান্ডবে উপজেলায় এক বছর পূর্বে নির্মিত আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রাম ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই না পাওয়া মানুষগুলো গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পেলেও আম্পানে আঘাতে তাদের সেই মাথা গোঁজার জায়গা টুকু তছনছ করে দেওয়ায় অনেকেই অসহায় হয়ে পড়েছেন। খড়িয়া মাঠবাড়ী গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ইপিকা মন্ডল ও মো. ফারুক হোসেন, বলেন, আম্পানের আঘাতে তাদের গুচ্ছগ্রামে জোয়ারভাটা অব্যাহত রয়েছে। ঝড়ের তান্ডবে অনেক ঘড়বাড়ি, পায়খানা, বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পানির আধার টিউবওয়েলগুরো নষ্ট হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ঘড়বাড়ি সেখানে বসবাস করার মতো কোন পরিবেশ নেই। রাস্তার ওপর কিংবা স্কুল প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করতে হচ্ছে। অনেক পরিবারের লোকজন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে বলে তারা জানান। গোবরা গুচ্ছগ্রামের বসবাসকারি শেখ কওছার বলেন, গুচ্ছগ্রামের মাল্টিপারপাস, টিউবওয়েলসহ মাটির রিংবাধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাগালী ইউনিয়নের শেওড়া গুচ্ছগ্রামে পানি প্রবেশ করায় সেখানেও ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন লাভলু বলেন, প্রায় এক বছর আগে নির্মিত সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা খড়িয়া মাঠবাড়ী গুচ্ছগ্রামে ভূমিহীনরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে তছনছ করে দেওয়ায় সেখানে কেউ বসবাস করতে পারছেনা। অবিলম্বে এটি পুনর্নির্মাণ করে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে গোড়া তোলার দাবি জানিয়েছেন তিনি। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, মঠবাড়ি গুচ্ছগ্রামটি পুনর্নির্মাণ না করা হলে সেখানে বসবাস করা সম্ভব নয়। কয়রা তিনটি গুচ্ছগ্রামের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

"