কলকাতা থেকে প্রতিদিন ফোন করত মাজেদ

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলকাতা থেকে নিয়মিত বাংলাদেশে ফোন করেই সম্ভবত ধরা পড়েছে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) মাজেদ। এরই মধ্যে তার মৃত্যুদ- কার্যকর হয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক বর্তমান পত্রিকায় এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, প্রতিদিন দুটি নম্বরে নিয়মিত ফোন করে বাংলাদেশে কথা বলত খুনি আবদুল মাজেদ। নম্বর দুটি হলো +৮৮০১৫৫২৩৮৭৯১৩ ও +৮৮০১৭১১১৮৬২৩৯। কলকাতার ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ঘাতকের ডেরা’ নামের বিশেষ প্রতিবেদনের শেষ পর্বে এসে প্রতিবেদক সুজিত ভৌমিক বলছেন, সম্ভবত বাংলাদেশে নিয়মিত ফোন করতে গিয়েই ধরা পড়েছে মাজেদ।

বর্তমান পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের অনুমান বাংলাদেশে থাকা মাজেদের পরিবারের সদস্যদের ফোনে নিয়মিত আড়ি পাততো গোয়েন্দারা। ফলে মাজেদ কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন সেই তথ্য সহজেই জেনে যায় তারা। এরপরই তাকে গ্রেফতারের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়।

বর্তমান পত্রিকায় বলা হয়ছে, কলকাতা শহরে মাজেদের অবস্থান জানতে খুব সম্ভবত ভারতের কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নিয়েছিলেন বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। যদিও এ নিয়ে দুই দেশের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তদন্তে জানা গেছে, কলকাতায় মাজেদ যে দুটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করত তার একটিও নিজের নামে ছিল না, স্ত্রীর নামে ছিল।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন হওয়ার পর দেশ ছাড়ে মাজেদ। সেই সময় ভারত হয়ে লিবিয়া ও পাকিস্তানে যায় সে। তবে সুবিধা করতে না পারায় সেখান থেকে কলকাতায় চলে আসে। তার পার্ক স্ট্রিটের ভাড়া বাড়ি থেকে ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। গোয়েন্দারা এখন খতিয়ে দেখছেন, সেখানে মাজেদ কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির সাহায্য পেয়েছিল কিনা।

ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র বর্তমান পত্রিকাকে জানিয়েছে, ২০১৭ সালে ওই পাসপোর্ট বানানো হয়েছে। নিয়ম মেনে পার্ক স্ট্রিট থানা পুলিশ ভেরিফিকেশন করার পর পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে হাওড়া উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের সব কাগজপত্রই ছিল মাজেদের। আধার কার্ডও সে বানায় অনায়াসে। তার আধার কার্ড নম্বর হলো ৭৯৪১ ৯৫৯১ ২৮৬৪। এছাড়াও ২০১২ সালে মাজেদ সচিত্র ভোটার কার্ড বানিয়েছিল।

মাজেদের স্ত্রী সেলিনা ওরফে জরিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে চলত মাজেদ। এমনকী খেতে দিতে সামান্য দেরি হলে রেগে আগুন হয়ে যেত সে।

 

"