করোনায় ভারতে এখনো সামাজিক সংক্রমণ নেই

ডব্লিউএইচওর ভুল স্বীকার

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

কলকাতা প্রতিনিধি

এখনো ভারতে করোনাভাইরাস সামাজিক সংক্রমণের আকার নেয়নি, ভুল স্বীকার করে এ কথা জানিয়ে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও। করোনার প্রকোপে বিশ্বের কোথায় কী পরিস্থিতি, তা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ডব্লিউএইচও। তাতে ভারতে পরিস্থিতি তৃতীয় পর্যায় অর্থাৎ গোষ্ঠী সংক্রমণের পর্যায়ে রয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করলে ভুল স্বীকার করে নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতে করোনা গ-িবদ্ধ পর্যায়ে বা ক্লাস্টারে পৌঁছে গেলেও তা এখনো গোষ্ঠী সংক্রমণের আকার ধারণ করেনি। রিপোর্টে তা ভুলবশত দেখানো হয়েছিল। এর আগে, করোনা সংক্রমণকে মোট চারটি পর্যায়ে বেঁধে দিয়েছে ডব্লিউএইচও, যেগুলো হলোÑ নিশ্চিতভাবে সংক্রমিতের সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, বিক্ষিপ্ত সংক্রমণ, গ-িবদ্ধ সংক্রমণ এবং গোষ্ঠী সংক্রমণ। গোষ্ঠী সংক্রমণ বলতে বোঝায়, যখন সংক্রমণ শুধু বিদেশফেরতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং অবাধ মেলামেশার কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়ে, যার কোনো হিসাব রাখা সম্ভব হয় না। ডিসেম্বরে চিনেই প্রথম করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়, ডব্লিউএইচওর কাছে সেই তথ্য পৌঁছানো থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ১০০ দিন পেরিয়েছে। সে কারণে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করে ডব্লিউএইচও। কিন্তু তাতে বিস্তর গলদ ধরা পড়েছে। দেখা গেছে, আক্রান্তের নিরিখে ৬ হাজার পেরোনো এবং মৃত্যু সংখ্যার নিরিখে ২০০ ছুঁই ছুঁই ভারতে গোষ্ঠী সংক্রমণ দেখা দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ মৃত্যু সংখ্যা ৩ হাজার পেরোনো চিনকে রাখা হয়েছে গ-িবদ্ধ সংক্রমণের আওতায়।

এদিকে এশিয়ার সবচেয়ে বড় বস্তি এবার করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণের মুখে। মুম্বাইয়ের ধারাভি বস্তিতে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২২। মুম্বাই মিউনিসিপাল করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, নতুন করে পাঁচজন করোনা আক্রান্তের মধ্যে দুজন মহিলা। একজনের বয়স ২৯ বছর, যিনি বৈভব নগরে অবস্থিত চিকিৎসকের স্ত্রী এবং অন্য একজন ৩১ বছর বয়সি, যিনি কল্যাণওয়ারি এলাকার বাসিন্দা। দুজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি দিল্লির মারকাজ নিজামউদ্দিন ফেরত। এদের মধ্যে একজন ডা. বালিগা নগরের বাসিন্দা ও অন্যজন পিএমজিপির বাসিন্দা। ইতোমধ্যে এই দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ধারভিতে আরো তিনটি নতুন করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে মুকুন্দ নগরের দুজন। একজন বয়স ৫৮ বছর, আরেকজনের বয়স ৩০ বছর। দুজনেই পুরুষ। উল্লেখ্য মহারাষ্ট্রে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬৯। মারা গেছেন ৯৭ জন, প্রশাসনিক কর্তাদের অনেকেই মনে করছেন, তাবলিগ জামাতফেরত দুজন ব্যক্তির শরীর থেকেই ধারাভি বস্তিতে আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে।

অন্যদিকে লকডাউনের জেরে বিপুল মন্দার সামনে দেশের অর্থনীতি, এই অবস্থায় কর্মী সংকোচন শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলো। আগামী কয়েক মাসে অন্তত দেড় লাখ মানুষ কাজ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলোর গ্রোথ আগামী কয়েক মাসে অস্বাভাবিকভাবে কমে যাবে। এর ফলে বহু মানুষ কাজ হারাবেন। কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি আইটি কোম্পানি। জানা গেছে, পুনের একটি ছোট আইটি কোম্পানি ইতোমধ্যে অন্তত সাত কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। একই অবস্থা আরো বেশ কয়েকটি আইটি কোম্পানির ক্ষেত্রেও। এই ঘটনাগুলো নেহাতই আসল সংকটের শুরু বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লকডাউনের জেরে বিপুল মন্দায় ছোট আইটি কোম্পানিগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতে আইটি সেক্টরে অন্তত ৪৫-৫০ লাখ মানুষ কাজ করেন। তার মধ্যে ১০-১২ লাখ মানুষ কাজ করেন ছোট আইটি কোম্পানিগুলোতে। বলা হচ্ছে, এরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এর মধ্যেই কংগ্রেসের সাবেক নেতা, যিনি একদা কাউন্সিলরও ছিলেন তার বিরুদ্ধে মার্কেজ নিজামুদ্দিনে যাওয়ার কথা পুলিশকে গোপন করার অভিযোগ উঠল। ওই নেতার স্ত্রী বর্তমানে এলাকার কাউন্সিলর।

স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও তাদের মেয়ের শরীরে মিলেছে করোনার সংক্রমণ। পুলিশ জানাচ্ছে, ওই সাবেক নেতার অবহেলার কারণেই তার গ্রাম দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির দীনপুরকে সিল করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের কারো বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। ওই তিনজনকেই আম্বেদকর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যখন সবার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারে, তখন ওই সাবেক কংগ্রেস নেতা তথ্য গোপন করেন। পরে তার শরীরে লক্ষণ ফুটে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার।

 

"