করোনা আতঙ্কে ছুটি চায় ২৩০ চা বাগানের শ্রমিকরা

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও চা-শ্রমিকদের এই ছুটির বাইরে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও সাধারণ ছুটির দাবিতে আঞ্চলিক চা বাগানগুলোর শ্রমিকরা বিচ্ছিন্নভাবে ছুটিতে যান। পরে মজুরি না পাওয়ার আশঙ্কায় আবার শ্রমিকরা দুদিন পর কাজে যোগ দেন। এবার বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধকালে সাধারণ ছুটির দাবিতে আজ (শনিবার) সকালে একযোগে দেশের ২৩০টি চা বাগানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয় শ্রীমঙ্গলের লেবার হাউস সূত্রে জানা যায়, সরকারি সিদ্ধান্তে এ সময় চা বাগানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা না করায় চা বাগানসমূহে শ্রমিকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই আলোকে গত ৭ এপ্রিল শ্রীমঙ্গলের চা-শ্রমিক ইউনিয়নের লেবার হাউসে ইউনিয়নের কার্যকরী পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে সেই বৈঠকে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে চা-শ্রমিক জনপ্রতিনিধি, বিগত চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি চা বাগান পঞ্চায়েত থেকে সব চা বাগান ব্যবস্থাপকের কাছে সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়ে ইতোমধ্যেই লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তা ছাড়া শ্রম মন্ত্রণালয়েও লিখিত আবেদন করা হয়েছে। এ আবেদনের পরও চা বাগান শ্রমিকদের সাধারণ ছুটি না দেওয়ায় জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সকাল ৯টায় এক যোগে দেশের ২৩০টি চা বাগানে শ্রমিকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন। এ কর্মসূচি পালনের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে বলেও জানা যায়।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী গতকাল শুক্রবার প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, দেশের সব ক্ষেত্রে এই দুর্যোগের সময় সাধারণ ছুটি চললেও কী কারণে শুধু চা-শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়নি, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীকে হয়তো ভুল বোঝানোর কারণে তিনি চা বাগানের বাস্তবতা বোঝেননি। চা বাগানে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হলে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত ৭ এপ্রিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার সারা দেশের ২৩০টি চা বাগানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন চা-শ্রমিকরা। মানববন্ধন শেষে চা বাগানে সাধারণ ছুটির দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পাঠানো হবে।

 

"