করোনাভাইরাসের ছোবলে বিপাকে রংপুরের কৃষক

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

রংপুর ব্যুরো

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত গোটা পৃথিবী। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে সারা বিশ্বে। এর ছোবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না কেউ-ই। অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে প্রায় পুরো পৃথিবী। কর্মহীন মানুষ ঘরে বসে অলস দিন কাটাচ্ছে বাধ্য হয়ে। বন্ধ রয়েছে মানুষের যোগাযোগ, অফিস-আদালত, কৃষিকাজসহ নিত্যনৈমিত্তিক সব কাজ। এই অবস্থায় কর্মহীন দিনের ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতির কথা শোনাচ্ছেন রপুরের কৃষিজীবীরা। পরিবহন সংকটের কারণে তাদের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিক্রির ব্যবস্থা না হওয়ায়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমমূল্যে বিক্রির করতে হচ্ছে লোকসান মেনেও। তাই মাঠভরা সবজি নিয়েও হতশায় মুহ্যমান তারা। দিনের পর দিন ট্রাকগুলো অলস পড়ে আছে বিভিন্ন স্ট্যান্ডে। জরুরি পণ্যবাহী পরিবহন চালু রাখার কথা থাকলেও বন্ধ রয়েছে ট্রাকসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের লেনদেন, ড্রাইভার-হেল্পার ও শ্রমিকরা না আসায় অধিকাংশ গাড়ির চাকা ঘুরছে না।

রংপুর নগরীর সিগারেট কোম্পানি মোড় এলাকার ট্রাক ড্রাইভার মোকলেছ মিয়া বলেন, আগে যেখানে ভাড়া ছিল ২০ হাজার টাকা, সেখানে এখন নেমে এসেছে ৮ থেকে ১০ হাজারে। এছাড়া একসঙ্গে অনেকের জড়ো হতে নিষেধ থাকায় গাড়ি নিয়ে বাইরে যাওয়া হচ্ছে না। এদিকে পরিবহন সংকটের কারণে শাকসবজি জেলার বাইরে পাঠানো যাচ্ছে না। স্থানীয় হাট-বাজারেও নেই পাইকারি বেচাকেনা। নিজেরাই দোকান সাজিয়ে বসছেন অনেক কৃষক। সেখানেও ক্রেতা নেই। সদর উপজেলার চিলমন এলাকার সবজি চাষি আজাদ মিয়া বলেন, ‘বাবা গাড়ি চলাচল তো বন্ধ। মাল তো ঢাকায় যাওছে না; হামরা এ্যখনা বেগুন আবাদ করছি; তাও নেওয়ার লোক নাই। জমিতে পচে যাওছে বেগুন। আর যে কতদিন থাকবে করোনাভাইরাস।’ তিনি বলেন, আমি ৬০ শতাংশ জমিতে টমেটো চাষ করছি। বাজারে টমেটোর দাম নেই; ঢাকায় গাড়ি না যাওয়ার কারণে জমিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে টমেটো।

নগরীর সবজি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। এদিকে বিকাল ৫টার মধ্যে বন্ধ করতে হয় দোকান। কাঁচামালের দাম কম থাকলেও ক্রেতা নেই। প্রতিদিনেই পচে যায় অনেক মাল; ফেলে দিতে হয় ডাস্টবিনে। প্রতিদিনেই গুনতে হয় লস। রংপুর কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, যেহেতু এখনো ভরা মৌসুম আসেনি তাই কম উৎপাদন হচ্ছে। আর এটি আসার আগে যদি দুর্যোগটি কেটে যায়, তাহলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত তেমন হবে না; পুশিয়ে নিতে পারবে।

 

"