ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মিঠাপুকুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে প্রবাসীসহ ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ (জ্বর-কাশি-শ্বাসকষ্ট) নিয়ে প্রবাসীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রংপুরের মিঠাপুকুরে জ্বর-শ্বাসকষ্টে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে প্রবাসীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় আইসোলেশনে থাকা বাঞ্ছারামপুর উপলোর ৪৫ বছর বয়সি এক কৃষক এবং রাতে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শ্বাসকষ্টে এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়। গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় নাসিরনগরের জেঠাগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে তার মৃত্যু হয়। পরে আইইডিসিআরের নিয়ম মেনেই তাদের দাফন করা হয়েছে। এই ঘটায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ওই প্রবাসীর বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সি ওই প্রবাসী গত ১৮ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেন। এরপর নাসিরনগর উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনায় ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকেন তিনি। তবে কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালে তার শারীরিক কোনো সমস্যা হয়নি। পরবর্তী সময়ে গত শনিবার তিনি কিছুটা অসুস্থ বোধ করলে তার শারীরিক কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় তার টাইফয়েড ধরা পড়ে। তবে করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ ছিল না। এরপর গত মঙ্গলবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে শ্বাস কষ্ট দেখা দিলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায় জানান, করোনার উপসর্গ (জ্বর-কাশি-শ্বাসকষ্ট) নিয়ে তিনি মারা গেছেন। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে জানা যাবে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি-না। ইউএনও নাজমা আশরাফী জানান, তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রবাসীর নিজের বাড়ি মুকবলপুর ও শ্বশুরবাড়ি জেঠাগ্রাম ১৪ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

মিঠাপুকুর (রংপুর) : রংপুরের মিঠাপুকুরে জ্বর-শ্বাসকষ্টে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ওই নারী উপজেলার ভাংনি ইউনিয়নের কামালপুর পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের হাসপাতালে মারা গেছেন। পরে নমুনা সংগ্রহের জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নমুনা নেওয়ার পর লাশটি ফের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। লাশ নিয়ে আসার পর অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও নারীর স্বজনরা গা ঢাকা দিয়েছেন। বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই লাশটি পড়ে আছে। হাসপাতালের টিএইচও ডা. আবদুল হাকিম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার জানিয়েছেন, তিনি অসুস্থ ছিলেন। তবে তার অসুস্থতার বিষয়টি সন্দেজনক হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর জানা যাবে তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি-না।

 

"