কৃষক বাঁচাতে ত্রাণের তালিকায় কৃষিপণ্য

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অফিস-আদালত এবং গণপরিবহন বন্ধের মধ্যে কৃষককের ক্ষতি কমাতে ত্রাণের তালিকায় কৃষিপণ্য অন্তর্ভুক্ত করছে বলেছে সরকার। ত্রাণকার্যক্রমে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

সেখানে বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষক যেন তার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে ন্যায্যমূল্য পেতে পারে, সেই লক্ষ্যে ত্রাণকার্যক্রমের অংশ হিসেবে দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণযোগ্য খাদ্যসামগ্রীর আওতায় আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে লকডাউনের মধ্যে মানুষ ও যানবাহন চলাচল কমে যাওয়া স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বিক্রি অনেক কমে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা। অনেক ক্ষেত্রে দাম কমে যাওয়ার পাশাপশি অবিক্রীত পচনশীল শাকসবজি নষ্ট হওয়ার মাথায় হাত উঠেছে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি কর্মহীনদের তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা দিতে চার দফায় ২২ কোটি ১৫ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং ৫৬ হাজার ৫৬৭ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে গত সোমবার শেষ দফার বরাদ্দে শিশুখাদ্য কিনতে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

.করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঘোষিত সাধারণ ছুটির সময় কৃষি উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রতিপালন করে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। বসতবাড়ির আঙিনাসহ সব পতিত জমিতে শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য ফসলের চাষ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সময়ও জরুরি পণ্য বিবেচনায় সার, বালাইনাশক, বীজ, সেচযন্ত্রসহ সব কৃষিযন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টরসহ) এবং যন্ত্রের খুচরা যন্ত্রাংশ, সেচযন্ত্রসহ কৃষিযন্ত্রে ব্যবহৃত জ্বালানি, ডিজেল, কৃষিপণ্য আমদানি, বন্দরে খালাস, দেশের অভ্যন্তরে সর্বত্র পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় যথারীতি অব্যাহত থাকবে। ঢাকার শেরেবাংলা নগরের সেচভবন প্রাঙ্গণে কৃষক কর্তৃক উৎপাদিত নিরাপদ সবজি সরাসরি বিক্রির জন্য স্থাপিত প্রতি শুক্র ও শনিবারের ‘কৃষকের বাজার’-এ আসা কৃষিপণ্যবাহী গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট কৃষকদের চলাচল অব্যাহত থাকবে। সব কৃষিপণ্যবাহী গাড়ি চলাচল এবং এ-সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তিদের চলাচল অব্যাহত থাকবে। আউশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আবাদের লক্ষ্যমাত্র অর্জন নিশ্চিতকরণে সঠিক সময়ে বীজতলা তৈরি, রোপণ, সেচসহ অন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং এর দফতর, সংস্থা ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে নিজের এবং কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সময়ে সময়ে সরকারের নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালন করার কথা বলা হয়েছে।

 

"