ভারতে করোনার বিস্তার

৩৫ মৃত্যু : সংক্রমণ ২ হাজার ছুঁই ছুঁই

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত দুই হাজারের ছুঁই ছুঁই বলে জানা গেছে। সরকারি ও বেসরকারি তথ্য মতে এ কথা জানা গেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া শেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৭। মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৩৫। যদিও বেসরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৬১৬। মৃত্যু হয়েছে ৪৭ জনের। কেন্দ্রীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ৩৪৮ জন ভারতীয় নাগরিক। বাকি ৪৯ জন বিদেশের। এরই মধ্যে সেরে উঠেছেন ১২৪ জন। তাদের কয়েকজনকে এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বেলঘরিয়ার বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে। ২৬ মার্চ তিনি বেলঘরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করানো হয়। তখন তার জ্বর ও নিউমোনিয়ার লক্ষণ ছিল। বুধবার সকালে তিনি মারা গেছেন বলে খবর। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশ মেনেই তার দেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই প্রৌঢ়ের বিদেশ বা ভিন রাজ্যে যাওয়ার ইতিহাস নেই। তবে তার এক পরিচিত ভিন রাজ্যে থেকে এসেছিলেন। এর আগে, মঙ্গলবার এক দিনেই পশ্চিমবঙ্গে দুজনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। নীলরতন সরকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক প্রৌঢ় এবং হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অন্য এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৯ জন। এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাসের থাবায় প্রাণ হারালেন পাঁচজন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭।

অন্যদিকে দিল্লির নিজামুদ্দিনে সাদপন্থি হিসেবে পরিচিত একটি মসজিদকেন্দ্রিক তাবলিগ জামাতে যোগ দেওয়া আরো দুজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। ওই দুজন পুদুচেরির বাসিন্দা। তাদের একজনের বয়স ৫৮ বছর এবং অন্যজনের ৩১ বছর। দুজনকে পুদুচেরির যক্ষ্মা হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে, পরে তাদের স্থানান্তর করা হবে গান্ধী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটে। এদিকে নিজামুদ্দিনের ওই মসজিদে যোগ দেওয়ার পর মোট সাতজন মারা গেছেন। এরই মধ্যে মসজিদটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই মসজিদে তাবলিগ-জামাতের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া মোট ২৬ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।

এর মধ্যেই দিল্লির একটি সরকারি হাসপাতালে এক মহিলা ডাক্তারের করোনাভাইরাস রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গোটা হাসপাতাল। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন, দিল্লির স্টেট ক্যানসার ইনস্টিটিউটের এক মহিলা ডাক্তারের কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। তিনি সম্প্রতি তার ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন, যিনি তার কয়েক দিন আগেই ব্রিটেন থেকে ফিরেছিলেন। এর আগে, মঙ্গলবারই করোনাভাইরাস ধরা পড়ে দিল্লির আরো এক মহল্লা ক্লিনিকের ডাক্তারের। এই নিয়ে এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার মহল্লা ক্লিনিকের চিকিৎ?সকের করোনাভাইরাসের পরীক্ষার ফল পজিটিভ এলো। এর আগে দিল্লির মৌজপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকের এক ডাক্তার, তার স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার করোনাভাইরাস ধরা পড়ে।

আশার খবর দুই মাসের মধ্যেই দেশেই তৈরি হবে কোভিড-১৯ টেস্ট কিট। সারা দেশে করোনা সংক্রমণর এই অবস্থায় প্রত্যেক সম্ভাব্য রোগীর পরীক্ষা করার জন্যে কিটের অভাবও দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন প্রান্তে। সমস্যার সমাধানে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকাল রিসার্চের তরফে জানানো হয়েছে আগামী দুই মাসের মধ্যেই দেশে তৈরি শুরু হবে নতুন সেরোলজিকাল ডায়াগনস্টিক টেস্টিং কিট। আইসিএমআরের প্রধান এপিডেমিওলজিস্ট এবং কমিউনিকেবল ডিজিজ বিশেষজ্ঞ ডা আর আর গঙ্গাখেদকর জানিয়েছেন, একবার ভাইরাস আলাদা করা সম্ভব হলে ডায়াগনস্টিক কিট, ওষুধ এবং ভ্যাক্সিন তৈরির গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হয়ে উঠে। আর ভারত সেদিকেই এগোচ্ছে। আগামী এক-দুই মাসের মধ্যেই ভারতে অন্তত একটি সেরোলজিকাল ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা হবে।

 

"