আদমদীঘিতে ফাঁকা রেলস্টেশন নেই গণজমায়েত

প্রকাশ | ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বন্ধ হয়ে গেছে বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার জংশন স্টেশন থেকে চলাচল করা সব ধরনের ট্রেন, খাবার হোটেল, রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান, আবাসিক হোটেল, ছোট-বড় অনেক যানবাহন এবং বন্ধ রাখা হয়েছে হাট ও এনজিওর কিস্তি আদায়।

গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

উপজেলা সদর, সান্তাহার পৌর শহর, ছাতিয়ানগ্রাম বাজার, মুরইল, নশরতপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা যায় মুদি, কাঁচা বাজার, ফলের দোকান ও ফার্মেসির দোকান ছাড়া সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। কোথাও নেই কোনো গণজমায়েত।

এছাড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে গত ২৩ মার্চ জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উল্লেখিত বিষয়গুলো মেনে চলতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সে মোতাবেক উপজেলা প্রশাসন গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই এসব মেনে চলতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলার বেশ কিছু গ্রামে গুজব ছড়িছে পড়ছে ‘ফ্রিজে মাছ ও মাংস রাখা যাবে না, যদি কেউ রাখে পুলিশ এসে ফ্রিজ ভেঙে ফেলবে’। এমন অবস্থায় অনেকে ফ্রিজের মাছ-মাংস বের করে অন্যত্র সরিয়ে রাখছেন। আবার কেউ আতঙ্কে একাধিকবার ফ্রিজ ধুয়ে মুছে পরিষ্কারও করে ফাঁকা করে রাখছেন। আর এসবের কারণ হিসেবে তারা বলছেন ফ্রিজ থেকে নাকি করোনা ছড়িয়ে পড়ছে।

এসব গুজবের বিষয়ে আদমদীঘি থানার ওসি জালাল উদ্দীন বলেন, এমনিতেই সাধারণ মানুষ করোনা নিয়ে আতঙ্কে আছে। এর ওপর নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে এসব মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান জানান, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার নতুন করে বিদেশ ফেরত আরো চারজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয় এবং দুজনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত বিদেশফেরত ৮০ জন নারী ও পুরুষকে করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে পর্যবেক্ষণে রাখার পর ১৪ দিন অতিবাহিত হওয়ায় ৩২ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৪৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ কে এম আবদুল্লাহ বিন রশিদ জানান, সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সবাইকে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করার জন্য বলা হয়েছে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"