বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ সম্মেলন

ব্যাংক খাত নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

প্রকাশ | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এতে আগামীতে কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম। এজন্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জনগণকে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত না হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সেসঙ্গে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে আমানতকারী মাত্র ১ লাখ টাকা পাবেনÑ এমন খবরকেও গুজব বলে দাবি করেছেন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে এক জরুরি সংবাদ সম্মলনে তিনি এ কথা বলেন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখার পর যদি ওই প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়; তাহলে আমানতকারী মাত্র ১ লাখ টাকা পাবেন বলে যে খবর এসেছে, তা আসলে গুজব। আমানতের সুরক্ষা আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন হয়, তাহলে প্রথম প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন ও পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে আমানতের সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। পরে আমানতের বাকি টাকা ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ফেরত দেওয়া হবে। এ বিষয়ে শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের রক্ষিত আমানত সুরক্ষা প্রসঙ্গে লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষায় ১৯৮৪ সালে অর্ডিন্যান্স হয়। ওই অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী কোনো ব্যাংক অবসায়ন হলে আমানতের অর্থ ফেরত প্রদানের জন্য বিমা কভারেজের পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার টাকা মাত্র। পরবর্তীতে ব্যাংক আমানত বিমা আইন-২০০০-এর আমানতকারীদের সুরক্ষা খাবার হিসেবে এটা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়। আগামীতে এটি আরো বাড়ানোর বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন।

মুখপাত্র বলেন, কোনো ব্যাংক অবসায়নের ঘোষণা দিলে অনধিক ১৮০ দিনের মধ্যে আমানতকারীদের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘আমানত বিমা ট্রাস্ট তহবিল’ থেকে পরিশোধ করা হবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিমা তহবিলে প্রিমিয়াম জমা হয়েছে ৪ হাজার ৫ কোটি টাকা। এ অর্থ বিনিয়োগ হওয়ায় মুনাফাসহ তহবিলে অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। তহবিলে যে পরিমাণ টাকা রয়েছে তার ৯২ শতাংশ আমানতকারীর হিসাব সম্পূর্ণ বিমাকৃত। আর বাকি মাত্র ৮ শতাংশ আমানতকারী হিসাব বিমাকৃত নয়।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক জিএম আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা দিতে আমানত বিমা আইন নিয়ে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

"