ভারতে গুড়িয়া ধর্ষণে দণ্ড : আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিককে আক্রমণ

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

কলকাতা প্রতিনিধি

২০১৩ সালে অপহরণ করে ন্যকারজনকভাবে পাঁচ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দিল্লির এক স্থানীয় কোর্ট। এদিকে এরপরই উত্তাল হয়ে ওঠে কোর্ট প্রাঙ্গণ। এক মহিলা সাংবাদিককে ওই দুই দোষীর একজন আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। রায় দানের সময়ে কোর্টের তরফে বলা হয়েছে, সমাজে নাবালিকাদের দেবীরূপে অর্চনা করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ধর্ষিতাকে ন্যকারজনকভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। কোর্টের তরফে আরো বলা হয়েছে যে, পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে এই ধরনের ঘৃণ্য কা-। দোষীদের কী সাজা হতে চলেছে তা জানা যাবে ৩০ জানুয়ারি। আর কোর্টের তরফে দোষীদের প্রতি কোনো অনুতাপ না দেখানোয়, কোর্টরুমের অন্দরেই হুট করে এক মহিলা সাংবাদিকের ওপরে চড়াও হয় দোষীদের একজন। ২০১৩ সালে পাঁচ বছরের মেয়েটি হঠাৎই এক দিন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পুলিশ সেই সময়ে নাবালিকার মা-বাবা ও মেয়েকে যত্ন সহকারে দেখভাল করার নির্দেশ দেয়। আর তার ঠিক দুই দিন পরেই নিজের বাড়ির বেসমেন্ট থেকেই পাঁচ বছরের ওই ছোট্টে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, নাবালিকাকে ন্যকারজনকভাবে ধর্ষণ করে দুজন। নির্ভয়া কাণ্ডের ঠিক দুই মাস পরেই এই ঘটনা দেশকে আরো একবার নাড়িয়ে দিয়েছিল।

ওদিকে পূর্বনির্ধারিত ২২ জানুয়ারিতে যে ফাঁসি হচ্ছে না, দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে শুনানিতেই তা স্পষ্ট হয়েছিল। দায়রা বিচারক সতীশ অরোরা তার আগের পরোয়ানা বদলে মৃত্যুদ- কার্যকরী করার জন্য নতুন পরোয়ানা জারি করেছেন। তাতে ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টায় ফাঁসি ধার্য হয়েছে। কিন্তু এখন বাঁচার আশা ছাড়তে নারাজ নির্ভয়া কা-ের অন্যতম দোষী পবন গুপ্তা। শীর্ষ আদালতে ফের একবার আবেদন দাখিল করেছে সে। তাতে বলেছে, ১৬, জানুয়ারি ২০১২-তে সে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা নাবালক ছিল। নিজেকে নিরীহ দাবি করে ফের একবার আবেদন করেছে পবন গুপ্তা। পবনের দাবি, ২০১২-এর ঘটনার সময়ে সে ছিল নাবালক। জুভেনাইলের ফাঁসি বা দীর্ঘ কারাবাসের কোনো সংস্থান নেই ভারতীয় আইনে। সে মুক্তি চেয়েছে শীর্ষ আদালতে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় শীর্ষ আদালতের বিচারপতি আর ভানুমতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে হবে শুনানি।

বস্তুত, যে কারণে ২২ জানুয়ারির নির্ঘণ্ট বদলেছে, ১ ফেব্রুয়ারির দিনক্ষণ নিয়েও সংশয়ের অবকাশ সে কারণেই। কেননা, চার অপরাধীর মধ্যে মুকেশ সিংয়ের ক্ষমা ভিক্ষার আর্জি নাকচ করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। কিন্তু অন্য তিনজন- অক্ষয়, পবন, বিনয় এখনো সে আর্জি পেশই করেনি। এর মধ্যে মুকেশের সঙ্গেই কয়েক দিন আগে বিনয়ের কিউরেটিভ পিটিশন সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়েছিল। আবার অক্ষয় শীর্ষ আদালতে কিউরেটিভ পিটিশন এখনো দায়েরই করেনি। এ দিকে, শত্রুঘœ চৌহান বনাম ভারত সরকার মামলায় ২০১৪-এর সুপ্রিম কোর্টের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফাঁসির আসামির ক্ষেত্রে প্রাণরক্ষার যাবতীয় আইনি সুযোগ শেষ হওয়ার পর থেকে অন্তত ১৪ দিনের ব্যবধান থাকতে হবে মৃত্যুদ- কার্যকরী করার মধ্যে। যাতে চরম পরিণতির জন্য মানসিক প্রস্তুতির সুযোগ পায় বন্দি। ফলে সব মিলিয়েই ফের বদলাতে পারে নির্ঘণ্ট।

 

"