৪০ দিন বয়সি মেয়ের ঘাতক তারই বাবা

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোজখালী গ্রামে ছেলে সন্তান জন্ম না হওয়ায় ৪০ দিন বয়সি মেয়েকে পানিতে ফেলে হত্যার ঘটনার ঘাতক যে তারই পাষ- বাবা জাহাঙ্গীর সিকদার, পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় ‘জিদনী’ নামের শিশু মেয়েকে পানিতে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক বাবা জাহাঙ্গীর সিকদার তার শিশু মেয়ে জিদনীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। শিশুটির মা সীমা বেগম বলেন, ছেলে সন্তান হবে নাকি মেয়ে হবে, সেটা কি আমার ওপর নির্ভর করে? কী অপরাধ করেছে আমার ৪০ দিন বয়সি জিদনী? এ কেমন বাবা? এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোজখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর সিকদার ও সীমা দম্পতির সোহাগী (৯) ও জান্নাতী (৩) নামে দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এরপর গত ৮ ডিসেম্বর ওই দম্পতির জিদনী নামের আরেকটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। বাবা জাহাঙ্গীর সিকদার মেয়ে সন্তান জন্মের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। তার আশা ছিল একটি ছেলে সন্তানের। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় বাবা জাহাঙ্গীর সিকদার জিদনী ও অপর দুই মেয়ে সন্তান ঘরের মধ্যে শুয়ে ছিল। এ সয় তার স্ত্রী সীমা বেগম ও সীমার মা পারুল বেগম বসতঘরের বাইরে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কাজ শেষে রাত ১১টায় শিশুটির মা সীমা বেগম ও নানী পারুল বেগম ঘরে প্রবেশ করে দেখেন পেছনের দরজা খোলা ও জিদনীকে বিছানায় না দেখে ডাক চিৎকার শুরু করেন। তার ডাক চিৎকার শুনে প্রতিবেশী ও বাড়ির অন্যান্য লোকজন ছুটে আসে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টায় ঘরের পেছনের ডোবায় পানির মধ্যে শিশু জিদনীর ঘুমানোর কাঁথা-বালিশ এবং বিছানাপত্রসহ লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ রাত ৩টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বাবা জাহাঙ্গীর সিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে।

গত শুক্রবার দুপুরে মা সীমা বেগম অজ্ঞাত আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

"