ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা

* ভোট পেছানো যেতে পারে : আতিক * ইভিএমে ভোটাররা প্রস্তুত নন : তাবিথ * হটলাইনে কথা বলার সুযোগ দেব : তাপস * ইসিতে অভিযোগ করে কাজ হয় না : ইশরাক

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

জমে উঠেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা। রাজধানীর অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন মেয়র প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি, ভোটারদের মন জয় করতে যাচ্ছেন তাদের দ্বারে দ্বারে। গতকাল বৃহস্পতিবারও মেয়র প্রার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভোট প্রার্থণা করেছেন।

ভোট পেছানো যেতে পারে : আতিক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের লোক বাস করে, সবারই উৎসব পালনের অধিকার রয়েছে। সরস্বতী পূজার কারণে যদি নির্বাচন পেছানোর দরকার হয় সেটা করতে হবে। তিনি বলেন, আমার এবং দলের পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি, যদি সম্ভব হয় তাহলে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দিন। কারো ধর্ম পালনে যেন কোনো বিঘœ না ঘটে। গতকাল রাজধানীর মিরপুরের আলুব্দী ঈদগাহ মাঠে এক সমাবেশে নির্বাচন কমিশনের প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদও ভোটের তারিখ পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। ভোটের তারিখ পরিবর্তনের জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। কিন্তু সেটা খারিজ হয়ে যাওয়ায় গতকাল আপিল করেছেন তিনি। পূজার জন্য ভোট পেছানোর দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীও কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে আসছেন। তবে নির্বাচন কমিশন ৩০ জানুয়ারি ভোট করার জন্য অনড়।

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আতিকুল বলেন, আমি যদি বলতাম আমার নেতাকর্মীরা যদি বলত, তাবিথ আউয়ালের কোনো পোস্টার ঢাকা শহরে থাকত না। আমি দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধ করব, আমাদের কোনো পোস্টার ছেড়া লাগবে না, কাউকে বাধা দেওয়া লাগবে না। আমি বরং ওয়েলকাম করব, প্রয়োজন পড়লে আমি পোস্টার লাগিয়ে দেব কিন্তু ছিড়ব না। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ইভিএম ব্যবহারে জনগণ প্রস্তুত নয় : তাবিথ

সব পরিস্থিতি বিবেচনায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ব্যবহার করার জন্য জনগণ এখনো প্রস্তুত নয়। নির্বাচন কমিশন নিজেই স্বীকার করছে, তাদের প্রশিক্ষিত জনবল নেই, সেনাবাহিনীর থেকে ধার করতে হচ্ছে। এসব যুক্তি দেখিয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাগজের ব্যালটে ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে সাংবাদিকদের সামনে আবারও এ দাবি তুলেন তিনি।

তাবিথ বলেন, আমরা সবসময় বলে আসছি, আমরা প্রযুক্তির বিপক্ষে নই, আমরা প্রসেসটার বিরোধিতা করছি। নির্বাচন কমিশন যদি একতরফাভাবে ইভিএম ব্যবহার করতেই চায়, তাহলে অনেক আগেই উচিত ছিল, জনগণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার, তাদের সচেতন করার। কিন্তু তাদের সে ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা নেই।

হটলাইনে কথা বলার সুযোগ দেব : তাপস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, নির্বাচিত হলে মেয়র হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে কাজ করব। নাগরিক সেবা সাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা হটলাইন চালু করব। কোনো অভিযোগ থাকলে হটলাইনে সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।

গতকাল বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিব) তিন নম্বর গেট থেকে প্রচারণা শুরুর প্রাক্কালে তিনি এক পথসভায় এ কথা বলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, লালবাগের সাবেক এমপি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তাপস বলেন, পুরান ঢাকার ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করব। ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে আমরা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা ঢাকা সিটি করপোরেশনের দরজা ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখব।

ইসিতে অভিযোগ করে কাজ হয় না : ইশরাক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনে প্রায় প্রতিদিনই অভিযোগ যাচ্ছি। কিন্তু কমিশন থেকে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখছি না। আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। গতকাল যাত্রাবাড়ীতে গণসংযোগ শুরু আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক বলেন, আজ ইসলামপুরে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী আবদুল হাই, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা বাবুসহ ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের বেশ কয়েকজন আহত হন। তিনি বলেন, আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকব। জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চালিয়ে যাব। মেয়র প্রার্থী বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই সরকার ভুয়া মামলা নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। আমাদের নেতাকর্মীদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। কর্মীদের পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

এ সময় দয়াগঞ্জ ব্রিজ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, উত্তর যাত্রাবাড়ী, ৪৮নং ওয়ার্ড শহীদ জিয়া স্কুল, ধলপুর রোড, সুতি খালপাড়, কাজলা মেন রোড, ডেমরা রোড, ভাঙ্গা প্রেস, বাঁশপট্টি, শেখদি চৌরাস্তা, শনির আখড়া, মৃধাবাড়ী ক্যানেল রোড হয়ে কোনাবাড়ী এলাকায় গণসংযোগ চালান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা নবীল্লাহ নবী, এস এম জিলানী, তানভির আহমেদ রবিনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গণসংযোগে অংশ নেন।

 

"