আজ ঝালকাঠি মুক্ত দিবস

স্মৃতিচারণ করলেন মুক্তিযোদ্ধা মকবুল

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

আজ ঝালকাঠি মুক্ত দিবস। ঝালকাঠির ‘প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি’র সদস্য, সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মকবুল হোসেন শোনালেন মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদারদের হটিয়ে ঝালকাঠি মুক্ত করার স্মৃতিচারণ। তিনি ছিলেন সামরিক বাহিনীর সদস্য। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে চামটায় গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন বলে।

তিনি বলেন, ‘এপ্রিল মাসে পার্শ¦বর্তী লেশপ্রতাপ গ্রামের সুবেদার হাবিবুর রহমান মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে মুক্তিযুদ্ধে নেওয়ার ব্যাপারে রাজি হন। ২৬ বছর বয়সে তখন আমি বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের জনক। বাচ্চা ও স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি রেখে ৭ মাস বয়সি কন্যা লিলুকে তিনবার দেখে চুমু খেয়ে বিদায় নেই। প্রথমে স্বরূপকাঠির আতা এলাকায় এবং পরে শিকারপুরের ভরাকোঠা এলাকায় গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেই। পরে নজরুল সুবেদারের নেতৃত্বে আমাদের কয়েকজনকে বরগুনার তালতলী ফাতরার বনে পাঠানো হয়। সেখানের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প প্রধান ক্যাপ্টেন মেহেদীর নেতৃত্বে ২ মাস গেরিলা যুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অংশ নেই।’

‘ক্যাপ্টেন মেহেদীর নেতৃত্বে ১২ নভেম্বর ৭টি নৌকায় করে ঝালকাঠি সদর উপজেলার চাচৈরে আসার সময় নদী পারাপারকালে পাক হানাদাররা দেখে ফেলে এবং ব্রাশফায়ার করে। আমিসহ ৩ নৌকার মুক্তিযোদ্ধারা ওপরে উঠলেও নদীতে থাকা ৪ নৌকার মুক্তিযোদ্ধারা সেখানেই শহীদ হন। ১২ নভেম্বর রাতে চাচৈরে পৌঁছি। ১৩ নভেম্বর সকালে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেই। হানাদাররা আমাদের রণকৌশলের কাছে হার মেনে পরাজিত হয়। এরপর সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমরের ডাকে ২৩ নভেম্বর রাজাপুরে হানাদারদের সঙ্গে যুদ্ধ করে রাজাপুরকে হানাদার মুক্ত করি। পাক হানাদাররা নৌপথে ব্রাশফায়ার করতে করতে পিছু হটতে থাকে। আমরাও পেছনে পেছনে ধাওয়া করি। যাওয়ার পথে হানাদাররা আগুন জ্বালিয়ে দেয় ঝালকাঠি শহরে। ৮ ডিসেম্বর সকালে পাক বাহিনী ঝালকাঠি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন রাজাকারকে লঞ্চঘাটে নামিয়ে দিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঝালকাঠি লঞ্চঘাটে আমরাও নেমে রাজাকারদের হাতেনাতে আটক করি। এর মধ্যে বড় বড় গোফের টিক্কা খান নামের রাজাকারকে স্থানীয়রা টেনে গোফ ছিড়ে ফেলে এবং চোখ উঠিয়ে দেয়। আটক করা রাজাকারদের ঝালকাঠি নবনির্মিত কারাগারে আটকে রাখা হয়।’

স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের মূল বিষয়বস্তু হিসেবে তিনি বলেন, আমার দেশে আমার ঘরে থেকে আমার নিজের খেয়ে অন্যের কাছে কেন মাথানত করে থাকব? এ প্রশ্নের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়াই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি।

 

"