আরো ২৩ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন, ৭ কেন্দ্র উদ্বোধন

মুজিববর্ষে ঘরে ঘরে জ্বলবে বিদ্যুতের আলো : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ২০২১ সাল নাগাদ সব উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে সারা দেশের ঘরে ঘরে আলো জ্বালতে সক্ষম হবে সরকার। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, মুজিববর্ষ উদ্যাপনের মধ্যে আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হব। কেউ অন্ধকারে থাকবে না, সব ঘরেই আলো জ্বলবে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ৭ নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ২৩ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করে এ কথা বলেন।

৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছেÑ শিকলবাহা ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যু কেন্দ্র, আনোয়ারা ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, পটিয়া ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, রংপুর ১১৩ মেগাওয়াট, তেঁতুলিয়া ৮ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গাজীপুর ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, এই কেন্দ্র উদ্বোধনের ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন হয়েছে ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট এবং একই সঙ্গে দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধার আওতায় এসেছে। পাশাপাশি দেশের ৪৬১ উপজেলার মধ্যে ২৩৪ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হলো। আরো ১২৭ উপজেলায় শিগগিরই শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হবে। এগুলো উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া বাকি ১০০ উপজেলায় আগামী ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদযাপনকালে বিদ্যুতায়ন করা হবে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সাল নাগাদ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সাল নাগাদ ৪০ হাজার এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা।

শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হচ্ছেÑ বগুড়া জেলার গাবতলী, শেরপুর, শিবগঞ্জ, চট্টগ্রামের লোহাগড়া, ফরিদপুরের মধুখালী, নগরকান্দা, সালসা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর এবং পলাশবাড়ি, হবিগঞ্জের মাধবপুর এবং হবিগঞ্জ সদর, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এবং মহেশপুর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, নাটোরের বরাইগঞ্জ, লালপুর ও সিংড়া, নেত্রকোনার বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জ এবং পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া, কাউখালী এবং ইন্দুরকানি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি লক্ষ্য স্থির করেছি, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করব। জাতির পিতার জন্মদিন ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি পালন শুরু করে পরবর্তী ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত এক বছর এই কর্মসূচি চলবে। তখন আর একটি ঘরেও অন্ধকার থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের যে খরচ হয় এর চেয়ে অনেক কম অর্থে আমরা তা সরবরাহ করে যাচ্ছি। তিনি বিএনপি আমলে দেশে বিদ্যমান ভয়াবহ লোড শেডিংয়ের কথা স্মরণ করিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর সরকার গঠন করে ১৯৯৬ সালে সরকার দেশে বিদ্যুৎ পেয়েছিল মাত্র ১৬০০ মেগাওয়াট। পরবর্তী পাঁচ বছরে তা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট করে রেখে গেলেও ২০০১ পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার-পরবর্তী ৫ বছরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এক মেগাওয়াটও বাড়াতে পারেনি। উপরন্তু, তা কমিয়ে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের সরকার গঠনের পর থেকে বিদ্যুৎকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়াসহ একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে তার সরকার বিদ্যুৎকে আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ করব এই বিদ্যুৎ ব্যবহারে আপনারা সাশ্রয়ী হবেন। বিদ্যুৎ অপচায় যেন না হয়। বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হলে আপনাদের বিদ্যুতের বিলটাও কম আসবে। এই দেশ আমাদের এবং এই দেশের প্রতিটি সম্পদ জনগণের। কাজেই এই সম্পদকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, আসুন সবাই মিলে দেশকে গড়ে তুলি। আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

ডেপুটি স্পিকার ফজলে বাব্বি মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ-বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মো. শহীদুজ্জামান সরকার গণভবনের অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে দেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

"